তারেক রহমান আসতেই বরফ গলল, ভারতের জন্য বড় ঘোষণা বাংলাদেশের?

ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জমাট বাঁধা বরফ কি তবে গলতে শুরু করল? বাংলাদেশের মসনদে রদবদল ঘটার মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই তার ইঙ্গিত মিলল স্পষ্ট। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার ঠিক তিন দিনের মাথায় ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সমস্ত ধরনের ভিসা পরিষেবা পুনরায় চালু করল ঢাকা। শুক্রবার দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে এই বড় ঘোষণা করা হয়েছে।

কেন থমকে ছিল ভিসা পরিষেবা?

গত ডিসেম্বরে ভারতবিরোধী ছাত্রনেতা শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। বাংলাদেশে ব্যাপক বিক্ষোভ, ভারতবিরোধী স্লোগান এবং সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নিরাপত্তার খাতিরে এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েনের জেরে দীর্ঘ দুই মাস কনস্যুলার ও ভিসা পরিষেবা সম্পূর্ণ স্থগিত রাখা হয়েছিল।

তারেক সরকারের ‘মাস্টারস্ট্রোক’?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতা দখলের পরপরই ভারতের জন্য ভিসা উন্মুক্ত করে দেওয়া আসলে দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একটি ‘পজিটিভ সিগন্যাল’

  • আগে কী ছিল: শুধুমাত্র ব্যবসা ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত ভিসা সচল ছিল।

  • এখন কী: পর্যটন, চিকিৎসা (Medical) থেকে শুরু করে সমস্ত ক্যাটাগরিতেই ভারতীয়রা এখন বাংলাদেশে যাওয়ার ভিসা পাবেন।

পাল্টা পদক্ষেপ ভারতেরও

প্রতিবেশী দেশের এই ইতিবাচক বার্তার পাল্টা জবাব দিচ্ছে ভারতও। সিলেটে নিযুক্ত ভারতীয় সিনিয়র কনস্যুলার আধিকারিক জানিয়েছেন, বর্তমানে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য মেডিকেল ও ডাবল-এন্ট্রি ভিসা দেওয়া হচ্ছে। খুব শীঘ্রই পর্যটনসহ সব ধরনের ভিসা পরিষেবা পুরোদমে চালু করবে দিল্লি।

নজর এখন তারেক রহমানের দিল্লি সফরের দিকে

সম্পর্ক মেরামতের এই আবহে সবথেকে বড় চমক ছিল লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার উপস্থিতি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতিনিধি হিসেবে তিনি তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং মোদীর পক্ষ থেকে আমন্ত্রণপত্রও তুলে দেন।

ঐতিহ্যের প্রত্যাবর্তন? > অতীতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা তাঁদের প্রথম বিদেশ সফরের জন্য ভারতকে বেছে নিতেন। গত বছর মুহাম্মদ ইউনূস সেই প্রথা ভেঙে চীন সফরে যাওয়ায় দিল্লির অন্দরে চাপা অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। এবার কি তারেক রহমান সেই পুরনো রীতি মেনে প্রথম সফরে দিল্লিতেই পা রাখবেন? কূটনৈতিক মহল এখন সেদিকেই তাকিয়ে।