বিশেষ: দীর্ঘ যাত্রার ফ্লাইটে পাইলটরা কি ঘুমান? ফাঁস হলো বিমানের গোপন তথ্য

মাঝ আকাশে হাজার হাজার ফুট ওপর দিয়ে যখন আপনার বিমানটি উড়ে চলেছে, আপনি হয়তো সিটে বসে একটু আরামের চেষ্টা করছেন। কিন্তু ভেবে দেখেছেন কি, টানা ১০ থেকে ১৫ ঘণ্টা যারা বিমানটি চালাচ্ছেন, সেই পাইলটদের কী অবস্থা? যাত্রীদের মতো তারাও তো ক্লান্ত হন। তাঁদের বিশ্রামের জন্য বিমানের ভেতরেই লুকিয়ে থাকে এক রহস্যময় ও আরামদায়ক জগত, যার নাম ‘ক্রু রেস্ট কম্পার্টমেন্ট’।
পাইলটদের ঘুম কেন বাধ্যতামূলক?
ক্লান্ত পাইলট মানেই বিপদের সংকেত। ১৯৯৯ সালে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ ছিল পাইলটদের অবসাদ। সেই শিক্ষা থেকেই এখন কড়া নিয়ম—একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর পাইলটদের বিরতি নিতেই হবে। আর এই কারণেই দীর্ঘ দূরত্বের ফ্লাইটে অন্তত দুই বা তার বেশি পাইলট থাকেন, যাতে একজন বিশ্রামে গেলে অন্যজন নিয়ন্ত্রণ সামলাতে পারেন।
কোথায় থাকে এই গোপন কামরা?
সাধারণত যাত্রীদের চোখের আড়ালে থাকে এই জায়গাটি।
-
আধুনিক বিমানে: বোয়িং ৭৭৭ বা নতুন মডেলের বিমানে যাত্রীদের সিটের ওপরের অংশে (মাথার ওপরে) এই গোপন কেবিন থাকে।
-
পুরনো বিমানে: কার্গো হোল্ড বা মালামাল রাখার জায়গার পাশে ক্রুদের জন্য আলাদা সুরক্ষিত অংশ থাকে।
-
এয়ারবাস এ৩৮০: বিশালাকার এই বিমানে মূল কেবিনের নিচে ক্রুদের জন্য আলাদাভাবে ১২টি বাংঙ্ক বেড বা বিছানার ব্যবস্থা থাকে।
বিলাসবহুল সুযোগ-সুবিধা
ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA)-এর নিয়ম অনুযায়ী, এই জায়গাগুলো সাধারণ সিটের চেয়ে অনেক বেশি আরামদায়ক:
-
শব্দ ও কম্পনহীন: ইঞ্জিন বা বাতাসের শব্দ যাতে ঘুমে ব্যাঘাত না ঘটায়, তার জন্য এই কক্ষগুলো বিশেষ প্রযুক্তিতে তৈরি।
-
বিশাল বিছানা: প্রতিটি বিছানা অন্তত ৭৮ ইঞ্চি লম্বা এবং ৩০ ইঞ্চি চওড়া। গোপনীয়তার জন্য থাকে আলাদা পর্দা।
-
কন্ট্রোল সিস্টেম: আলো এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা থাকে ক্রুদের হাতেই। এছাড়া ইন্টারকমের মাধ্যমে ককপিটের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার ব্যবস্থাও থাকে।
-
নিরাপত্তা: জানালা না থাকলেও এখানে অক্সিজেন মাস্ক, সিটবেল্ট লাইট এবং জরুরি সুরক্ষার সব সরঞ্জাম মজুত থাকে।
বিমানের এই অংশটি সম্পূর্ণভাবে যাত্রীদের জন্য নিষিদ্ধ এলাকা। আপনি যখন নিশ্চিন্তে ঘুমান, তখন আপনার মাথার ওপরে বা পায়ের নিচে এভাবেই পাল্লা দিয়ে বিশ্রাম নিয়ে নেন আকাশপথের চালকরা।