ভোটার তালিকায় ব্যাপক কারচুপি? ডেডলাইন দিল নির্বাচন কমিশন, ফর্ম-৭ নিয়ে তোলপাড়!

আসন্ন নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া সংক্রান্ত ‘ফর্ম-৭’ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল। এবার সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের (DEO) বিশেষ কড়া নির্দেশ পাঠাল কমিশন। সোমবার, ১৬ই ফেব্রুয়ারি বিকেলের মধ্যেই সমস্ত ‘ফর্ম-৭’ পাঠানোর চূড়ান্ত সময়সীমা বা ডেডলাইন নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নড়েচড়ে বসল কমিশন সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছিল। ৯ই ফেব্রুয়ারি শীর্ষ আদালতের সেই নির্দেশের প্রেক্ষিতেই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে চিঠি পাঠিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। অভিযোগ উঠেছিল, বহু আবেদনপত্র বা আপত্তি খতিয়ে না দেখেই পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। এই অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) এবং জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, জমা পড়া প্রতিটি ‘ফর্ম-৭’ অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট ইআরও (ERO) এবং এ-ইআরও (AERO)-দের কাছে পাঠাতে হবে যাতে সেগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি করা যায়।
কেন এই কড়াকড়ি? নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট বার্তা, ভোটার তালিকায় কোনো ভুল বা কারচুপি বরদাস্ত করা হবে না। এসআইআর (SIR) বা স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন রিপোর্টে গাফিলতির অভিযোগে রাজ্যের সাতজন অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারকে (AERO) ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করা হয়েছে। ময়নাগুড়ি, সুতি, ক্যানিং পূর্ব, ফরাক্কা, সামশেরগঞ্জ ও ডেবরা বিধানসভা এলাকার এই অফিসারদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ত্রুটিপূর্ণ নথি অনুমোদনের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও স্বচ্ছতা কমিশন শুধু সাসপেনশনেই থেমে থাকেনি, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রাজ্যের মুখ্যসচিবকেও চিঠি পাঠানো হয়েছে। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি আবেদনপত্রের নিষ্পত্তি করতে হবে সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন এবং পুরনো নিয়ম মেনেই। ভোটার তালিকা নির্ভুল রাখতে এবং জনমানসে আস্থা ফেরাতে কমিশন এখন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। আজকের ডেডলাইনের পর রাজ্য জুড়ে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় কতটা স্বচ্ছতা ফেরে, সেটাই এখন দেখার।