আরজি করের নিরাপত্তারক্ষীদের ডেরা বদল! চাইনিজ স্কুল খালি করার চরম সময়সীমা বেঁধে দিল হাইকোর্ট

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের নিরাপত্তায় নিযুক্ত সিআইএসএফ (CISF) জওয়ানদের থাকার জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিনের টানাপড়েনের অবসান হতে চলেছে। আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে কলকাতার ট্যাংরার ‘পেই মে চাইনিজ স্কুল’ সম্পূর্ণ খালি করে দিতে হবে বলে সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে প্রতিশ্রুতি দিল রাজ্য সরকার। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই বিষয়ে একটি লিখিত ‘প্রতিশ্রুতিপত্র’ আদালতে দাখিল করতে হবে।

২০২৪ সালে আরজি কর কাণ্ডের পর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্ব পায় সিআইএসএফ। রাজ্য সরকার তাদের থাকার জন্য ট্যাংরার একমাত্র চাইনিজ স্কুলটি বরাদ্দ করে। স্কুল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ ছিল, মাত্র দু-মাসের জন্য জায়গা নেওয়া হলেও প্রায় দু-বছর হতে চলল জওয়ানরা স্কুল ছাড়ছেন না। এর ফলে স্কুলের পঠনপাঠন ও চিনা সম্প্রদায়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে চরম ব্যাঘাত ঘটছে।

এদিন শুনানিতে সিআইএসএফ-এর আইনজীবী রাজদীপ মজুমদার জওয়ানদের শোচনীয় অবস্থার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ১৩০ জন জওয়ান মাত্র ১০টি ঘরে গাদাগাদি করে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। ঘরের অভাব এতটাই যে, বারান্দায় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রাত কাটাতে হচ্ছে তাঁদের। চিনা নববর্ষের কারণে ১৮টি ঘরের মধ্যে ৮টি আবার ছেড়ে দিতে হয়েছে। এই পরিস্থিতি শুনে বিচারপতি রাও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং রাজ্যকে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন। রাজ্যের আইনজীবী অমল সেন জানান, নববর্ষের উৎসব মিটলেই ঘরগুলো আপাতত সিআইএসএফ-কে ফেরত দেওয়া হবে এবং ৩০ এপ্রিলের মধ্যে স্কুলটি পুরোপুরি খালি করে দেবে রাজ্য। আদালত আশা প্রকাশ করেছে যে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে স্কুল কর্তৃপক্ষ এই ক’টা দিন সহযোগিতা করবেন।