১০ মাসের জীবনেই মহানায়ক! ৫টি প্রাণ বাঁচিয়ে চিরঘুমের দেশে আলিন, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য

দশ মাস—যে বয়সে একটি শিশুর জগৎ সীমাবদ্ধ থাকে মায়ের কোল আর বাবার আঙুল আঁকড়ে ধরার খুশিতে, সেই বয়সেই এক অসাধ্য সাধন করে গেল ছোট্ট আলিন। একটি মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছিল তার প্রাণ, কিন্তু শোকাতুর বাবা-মায়ের এক কঠিন সিদ্ধান্তে আজ নতুন জীবন পেল পাঁচটি শিশু। কেরলের ইতিহাসে কনিষ্ঠতম অঙ্গদাতা হিসেবে নাম খোদাই করে বিদায় নিল ছোট্ট আলিন।

মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ও মানবিক সিদ্ধান্ত: গত ৫ ফেব্রুয়ারি এক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছিল আলিন। কোচির অমৃতা ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সে কয়েক দিন লড়াই করার পর ১৩ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসকেরা তাকে ‘ব্রেন ডেথ’ ঘোষণা করেন। নিজের সন্তানকে হারানোর বুকফাটা আর্তনাদের মাঝেই বাবা অরুণ আব্রাহাম ও মা শেরিন জন সিদ্ধান্ত নেন মেয়ের অঙ্গদানের। সেই মহানুভবতাতেই পাঁচটি প্রাণে আজ জ্বলে উঠল আশার প্রদীপ।

৫টি শিশুর দেহে বেঁচে থাকবে আলিন: শুক্রবার সন্ধ্যায় তৈরি হয় গ্রিন করিডর। আলিনের লিভার প্রতিস্থাপিত হয়েছে ৬ মাসের ধ্রিয়ার শরীরে। তার কিডনি নতুন জীবন দিয়েছে ১০ বছরের এক কিশোরীকে। এছাড়াও হার্ট ভাল্‌ভ এবং কর্নিয়া সংরক্ষিত হয়েছে আরও কয়েকজনের দৃষ্টি ও জীবন ফেরাতে। প্রতিটি অস্ত্রোপচারই সফল হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায়: আলিনের এই নিঃস্বার্থ ত্যাগের সম্মান জানাতে কেরল সরকার তাকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বিদায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। রবিবার সেন্ট থমাস চার্চ প্রাঙ্গণে জনসমুদ্রের উপস্থিতিতে গার্ড অফ অনার দিয়ে চিরবিদায় জানানো হয় এই খুদেকে। মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন থেকে শুরু করে অভিনেতা কামাল হোসেন—সকলেই আলিনের পরিবারকে কুর্নিশ জানিয়েছেন। আলিন চলে গিয়েও যেন প্রমাণ করে দিয়ে গেল, মানবতার আলো অন্ধকারের চেয়েও শক্তিশালী।