সতর্কতা! সাইলেন্ট কিলার AFib কাড়ছে হাজার হাজার প্রাণ, ১ কাপ কফিই কি হতে পারে রক্ষাকবচ?

এতদিন মনে করা হতো হার্টের সমস্যা থাকলে কফি বা ক্যাফেইন এড়িয়ে চলাই ভালো। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান সেই পুরনো ধারণাকে কার্যত ধুলোয় মিশিয়ে দিল। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য— প্রতিদিন পরিমিত কফি পান করলে ‘অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন’ (AFib) নামক মারণ হার্ট রিদম ডিসঅর্ডারের ঝুঁকি প্রায় ৩৯ শতাংশ কমে যেতে পারে।

কী এই AFib? কেন এটি বিপজ্জনক? অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন বা AFib হলো এমন এক শারীরিক অবস্থা যেখানে হৃদপিণ্ডের ওপরের প্রকোষ্ঠগুলো অনিয়মিতভাবে স্পন্দিত হয়। এর ফলে হার্টবিট অস্বাভাবিক দ্রুত হয়ে যায় বা ধড়ফড়ানি শুরু হয়। সঠিক চিকিৎসা না হলে এটি রক্ত জমাট বাঁধা, হার্ট ফেইলিওর এবং ভয়াবহ স্ট্রোকের কারণ হতে পারে। পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে কয়েক কোটি মানুষ এই সমস্যায় ভুগছেন এবং বয়সের সাথে সাথে এই ঝুঁকি আরও বাড়ে।

গবেষণায় নয়া মোড়: ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, সান ফ্রান্সিসকো (UCSF) এবং অ্যাডিলেড ইউনিভার্সিটির গবেষকরা একটি বিশেষ ক্লিনিকাল ট্রায়াল (DECAF) চালিয়ে দেখেছেন যে, যারা নিয়মিত কফি পান করেন তাদের হার্ট রিদম অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি স্থিতিশীল। ‘JAMA’ মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত এই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ক্যাফেইন পুরোপুরি এড়িয়ে চলা ব্যক্তিদের তুলনায় কফি প্রেমীদের মধ্যে AFib-এর ঝুঁকি ৩৯% কম।

কীভাবে রক্ষা করে কফি? হার্ট রিদম বিশেষজ্ঞ ডঃ গ্রেগরি মার্কাস জানিয়েছেন, কফি শরীরে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি হিসেবে কাজ করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এছাড়া কফি পান করলে শরীরে যে চনমনে ভাব আসে, তা মানুষকে শারীরিকভাবে সক্রিয় রাখে— যা হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, কফি পানকারীরা চিনিযুক্ত সফট ড্রিঙ্কসের বদলে কফি বেছে নেওয়ায় তাদের শরীরে ক্যালোরি এবং সুগারের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে থাকে।

তবে চিকিৎসকদের মতে, এই সুফল পেতে কফি হতে হবে পরিমিত এবং চিনি-দুধ ছাড়া ব্ল্যাক কফি হওয়াই সবচেয়ে শ্রেয়। হৃদরোগের হাত থেকে বাঁচতে জীবনযাত্রার এই ছোট পরিবর্তনই হতে পারে আপনার দীর্ঘ জীবনের চাবিকাঠি।