ধর্ষণের সাজা আমৃত্যু কারাদণ্ড নয়, কমিয়ে ১২ বছর করল হাই কোর্ট! পকসো মামলায় বম্বে উচ্চ আদালতের বড় রায়

২০১৬ সালের এক মর্মান্তিক যৌন নির্যাতনের ঘটনায় বম্বে হাই কোর্ট একটি তাৎপর্যপূর্ণ রায় দিয়েছে। পাঁচ বছরের এক নাবালিকার ওপর যৌন নির্যাতনের দায়ে বিশেষ পকসো (POCSO) আদালত এক যুবককে আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা দিয়েছিল। তবে উচ্চ আদালত সেই সাজা কমিয়ে ১২ বছর করার নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের মতে, অপরাধীর বয়স, জেলে কাটানো সময় এবং তাঁর সংশোধনের ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে ঘাটকোপার এলাকায়। তখন ২০ বছর বয়সি এক যুবক তাঁর ৫ বছরের এক প্রতিবেশী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার হন। ২০২০ সালে বিশেষ আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে আজীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিযুক্ত। বিচারপতি সরং কোটওয়াল এবং বিচারপতি সন্দেশ পাতিলের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, অপরাধের গুরুত্ব নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই এবং দোষ প্রমাণেও কোনও ত্রুটি নেই। তবে অভিযুক্তের আগের কোনও অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না এবং কোভিডকালেও তিনি একদিনের জন্য জামিন পাননি।
সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো জেলে থাকাকালীন ওই যুবকের চারিত্রিক পরিবর্তন। তাঁর আইনজীবীরা আদালতে জানান, তিনি জেলে থাকাকালীন বিভিন্ন শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন। বিশেষ করে মহাত্মা গান্ধীর আদর্শ নিয়ে পড়াশোনা, বই বিশ্লেষণ এবং প্রবন্ধ রচনার জন্য তিনি তিনটি শংসাপত্রও অর্জন করেছেন। উচ্চ আদালত মনে করে, অভিযুক্তকে পুরোপুরি সংশোধনের সুযোগ দেওয়া উচিত। ইতিমধ্যেই তিনি ৯ বছরের বেশি সময় জেলে কাটিয়ে ফেলেছেন। তাই অপরাধের গুরুত্ব এবং ন্যায়বিচারের ভারসাম্য রক্ষা করতে সাজা কমিয়ে ১২ বছর নির্ধারণ করেছে আদালত।