শান্তিনিকেতনের রাস্তায় আইসক্রিমওয়ালি! ছেলের ‘সেনা’ হওয়ার স্বপ্নপূরণে ছক ভাঙছেন মা সুচিত্রা

অভাব তাঁর নিত্যসঙ্গী, কিন্তু সেই অভাবের সাধ্য নেই সুচিত্রা বাগদির দুচোখ ভরা স্বপ্নকে কেড়ে নেওয়ার। বীরভূমের শান্তিনিকেতনের রাঙামাটির রাস্তায় এখন এক অনন্য দৃশ্য— পুরুষদের একচেটিয়া পেশার গণ্ডি ভেঙে আইসক্রিমের ভারী গাড়ি ঠেলে পর্যটকদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছেন এক লড়াকু মা। লক্ষ্য একটাই, তাঁর সাত বছরের ছেলে সুমন যেন একদিন ভারতীয় সেনায় যোগ দিয়ে দেশের সীমান্ত রক্ষা করতে পারে।

পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের ভুঁয়েড়া গ্রামের বাসিন্দা সুচিত্রা কলেজে ভর্তি হয়েও অভাবের তাড়নায় পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি। আট বছর আগে মিলনের সঙ্গে বিয়ের পর সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে তিন বছর আগে ভিটেমাটি ছেড়ে বোলপুরে চলে আসেন এই দম্পতি। শান্তিনিকেতনের নিচুপট্টি এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থেকে জীবনযুদ্ধ শুরু হয়। স্বামী মিলন আইসক্রিম বিক্রি করলেও একার উপার্জনে কুলিয়ে উঠতে পারছিলেন না। তাই প্রথমে একটি চশমার দোকানে সামান্য মজুরিতে কাজ শুরু করেন সুচিত্রা। কিন্তু সেই সামান্য আয়ে ছেলের পড়াশোনা আর ভবিষ্যতের সঞ্চয় অসম্ভব ছিল।

শেষ পর্যন্ত স্বামীর মতোই আইসক্রিমের গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নামার সিদ্ধান্ত নেন সুচিত্রা। গত চার মাস ধরে শান্তিনিকেতনের উপাসনা গৃহ থেকে মিউজিয়াম চত্বরে আইসক্রিম ফেরি করছেন তিনি। প্রথম দিকে এই ভারী গাড়ি চালানো অসম্ভব মনে হলেও জেদের কাছে হার মেনেছে সব বাধা। সুচিত্রার কথায়, “নারী-পুরুষের আলাদা কাজ বলে কিছু হয় না। প্রথম প্রথম অনেকে বারণ করেছিল, কষ্টও হতো, কিন্তু এখন সব সয়ে গিয়েছে।” দিনে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা উপার্জন করে তিনি এখন স্বপ্ন দেখছেন ছেলেকে বিশ্বভারতীতে পড়ানোর এবং পরে ভাইয়ের মতো সেনার পোশাকে দেখার। শান্তিনিকেতনের পর্যটকদের কাছেও সুচিত্রা এখন হার না মানা লড়াইয়ের এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা।