“আমি যখন মরব তখন এটা দেখবেন!” ট্রাম্পকে ভিডিও বার্তা পাঠিয়ে ইরানি যুবকের চরম পদক্ষেপ

ইরানের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবার এক চরম ট্র্যাজেডির সাক্ষী হলো। দক্ষিণ বন্দর শহর বুশেহরের বাসিন্দা পুরিয়া হামিদি নামে এক ব্যক্তি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পশ্চিমা বিশ্বের কাছে একটি ১০ মিনিটের ভিডিও বার্তা রেকর্ড করার পর আত্মহত্যা করেছেন। তাঁর এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ২০২৬ সালের শুরুতে ইরানের উত্তাল পরিস্থিতি নতুন মাত্রা পেয়েছে।

মৃত্যুর আগে বিস্ফোরক বার্তা: ভিডিওর শুরুতেই পুরিয়া বলেন, “আপনি যখন এটি দেখছেন, তার মানে আমি আর বেঁচে নেই।” ইংরেজিতে রেকর্ড করা এই বার্তায় তিনি সরাসরি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সম্বোধন করে অনুরোধ করেন, যেন ইরান সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা আপস না করা হয়। পুরিয়ার দাবি, এই সরকার ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী, যা বর্তমান বিশ্বের যেকোনো সংঘাতের চেয়েও ভয়াবহ।

দমনপীড়নের বিরুদ্ধে শেষ প্রতিবাদ: ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া গণবিক্ষোভ ২০২৬ সালেও জারি রয়েছে। তেহরান, দেজফুল ও আমোলের মতো শহরগুলোতে নিরস্ত্র জনতার ওপর তাজা গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে। পুরিয়া তাঁর বার্তায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, কূটনৈতিক সংলাপ হবে নিহত আন্দোলনকারীদের রক্তের প্রতি চরম বিশ্বাসঘাতকতা।

আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের দাবি: ইরানের বর্তমান অর্থনৈতিক মন্দা এবং রাজনৈতিক নিষ্পেষণে পিষ্ট সাধারণ মানুষের হাহাকারই পুরিয়ার ভিডিওতে ফুটে উঠেছে। তিনি মনে করেন, তেহরানের ওপর কঠোর আন্তর্জাতিক চাপ ছাড়া এই রক্তপাত বন্ধ হবে না। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এই ভিডিও এখন বিশ্ববাসীর কাছে ইরানের সাধারণ মানুষের গভীর হতাশা ও বিদ্রোহের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।