‘অপ্রশিক্ষিত অধ্যাপকের চেয়ে দক্ষ কেরানি ভালো!’ সুপ্রিম কোর্টে ইসি-র মন্তব্যে তোলপাড়

পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বেনজির বিতর্কে জড়াল নির্বাচন কমিশন (ECI) ও রাজ্য সরকার। সোমবার শুনানির সময় আধিকারিকদের যোগ্যতা ও প্রশিক্ষণ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবীর একটি মন্তব্য ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। কমিশনের তরফে সাফ জানানো হয়, “কাজের ক্ষেত্রে একজন প্রশিক্ষিত কেরানি একজন অপ্রশিক্ষিত অধ্যাপকের চেয়েও অনেক বেশি কার্যকর হতে পারেন।”
এদিন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি এন.ভি. আঞ্জারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্য সচিব তথা বর্তমান উপদেষ্টা মনোজ পন্ত। রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছে, মাইক্রো-অবজারভার হিসেবে কাজ করার জন্য তারা ৮,৫০৫ জন আধিকারিকের একটি তালিকা কমিশনকে প্রদান করবে। তবে এই কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইসি।
নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী ডি. শেষাদ্রি নাইডু আদালতে বলেন, “রাজ্য যে তালিকা দিচ্ছে, সেই আধিকারিকরা বর্তমানে কোথায় কর্মরত এবং তাদের পদমর্যাদা কী, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।” তিনি আরও যোগ করেন যে, বর্তমানে যে ৬,৫০০ জন প্রশিক্ষিত আধিকারিক কাজ করছেন, তারা প্রক্রিয়ার সাথে পরিচিত। নতুন করে বড় সংখ্যক অপ্রশিক্ষিত লোক নিয়োগ করলে সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করা কঠিন হতে পারে।
পাল্টা যুক্তিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “স্থানীয় আধিকারিকরা পরিস্থিতির গুরুত্ব এবং নামের অমিলের মতো জটিলতাগুলো ভালো বোঝেন।” এর উত্তরেই কমিশন ‘প্রশিক্ষিত কেরানি বনাম অপ্রশিক্ষিত অধ্যাপক’ উপমাটি ব্যবহার করে। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট কমিশনকে ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়েছে তালিকাটি খতিয়ে দেখার জন্য। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের কথা থাকলেও, পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে শীর্ষ আদালত।