সন্তানরা কি ইসলাম ধর্ম ভুলে যাবে? অমৃতা সিংয়ের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর কোন আতঙ্কে দিন কাটত সইফের?

বলিউড নবাব সইফ আলি খান এবং তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী অমৃতা সিংয়ের প্রেম থেকে বিচ্ছেদ—সবটাই ছিল নব্বইয়ের দশকের অন্যতম চর্চিত বিষয়। সম্প্রতি সইফের একটি পুরনো সাক্ষাৎকার নেটপাড়ায় ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর গভীর উদ্বেগ এবং যন্ত্রণার কথা ফুটে উঠেছে। অমৃতা সিংয়ের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর সারা এবং ইব্রাহিমকে নিয়ে এক অদ্ভুত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেন অভিনেতা।
সাক্ষাৎকারে সইফ জানিয়েছিলেন, ২০০৪ সালে যখন তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়, তখন পরিস্থিতি এতটাই জটিল ছিল যে তিনি সন্তানদের সঙ্গে দেখা করার অনুমতিও পেতেন না। সইফের মনে এক গভীর ভয়ের সৃষ্টি হয়েছিল। তিনি আশঙ্কা করেছিলেন যে, তাঁর দুই সন্তান সারা ও ইব্রাহিম হয়তো তাঁদের পারিবারিক শিকড়, পতৌদি বংশের সংস্কৃতি এবং ইসলাম ধর্ম থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। সইফের কথায়, “আমার ভয় ছিল যে আমার সন্তানরা বড় হওয়ার পর হয়তো তাদের বাবার ধর্ম বা সংস্কৃতি সম্পর্কে কিছুই জানবে না। অমৃতা এবং তাঁর পরিবারের প্রভাব সন্তানদের ওপর এতটাই বেশি ছিল যে আমি আতঙ্কিত থাকতাম।”
তবে সইফ এও স্পষ্ট করেছিলেন যে, তিনি কখনওই চাননি সন্তানরা কেবল ইসলাম ধর্ম আঁকড়ে থাকুক। একজন উদারমনা বাবা হিসেবে তাঁর ইচ্ছা ছিল সারা এবং ইব্রাহিম যেন উভয় ধর্ম ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনে বড় হয়ে ওঠে। কিন্তু বিচ্ছেদের পরবর্তী সেই অন্ধকার দিনগুলোতে তাঁকে সন্তানদের ছবি নিজের মানিব্যাগে নিয়ে ঘুরতে হতো এবং প্রতি রাতে তিনি চোখের জল ফেলতেন। অভিনেতার দাবি ছিল, সারা-ইব্রাহিমের মনে তাঁর সম্পর্কে বিরূপ ধারণা তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে।
সময় বদলেছে, আজ সারা আলি খান বলিউডের প্রথম সারির অভিনেত্রী। বর্তমান পরিস্থিতি দেখলে বোঝা যায় সইফের সেই ভয় আজ আর নেই। সারা যেমন দরগায় গিয়ে প্রার্থনা করেন, তেমনই কেদারনাথ মন্দিরেও তাঁকে নিয়মিত দেখা যায়। দুই ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রতিই তাঁর অগাধ শ্রদ্ধা অনুরাগীদের মন জয় করে নিয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে বয়সে ১২ বছরের বড় অমৃতা সিংকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন সইফ। কিন্তু তেরো বছর পর ব্যক্তিগত বিবাদ ও পারস্পরিক দূরত্বের কারণে তাঁদের বিচ্ছেদ ঘটে। আজ দুজনেই নিজের জীবনে থিতু, তবে সইফের সেই পুরনো স্মৃতি আজও ভক্তদের আবেগপ্রবণ করে তোলে।