আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন? জেনে নিন সাধারণ মানুষ কীভাবে মহাকাশচারী হতে পারেন!

সুনিতা উইলিয়ামস কিংবা শুভাংশু শুক্লা—এই নামগুলো শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে মহাকাশের অসীম শূন্যতা। কিন্তু এই উচ্চতায় পৌঁছানোর রাস্তাটি ঠিক কতটা কঠিন? অনেকেই মনে করেন মহাকাশে যাওয়ার পথ কেবল সেনাবাহিনীর ককপিট দিয়ে যায়। কিন্তু বাস্তবতা এখন বদলেছে। একজন সাধারণ শিক্ষার্থীও চাইলে এখন মহাকাশচারী বা ‘গগন্যাত্রী’ হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন।

মহাকাশচারী কারা এবং তাদের কাজ কী? মহাকাশচারীরা হলেন এমন একদল বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মানুষ যারা মহাকাশ ভ্রমণ, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং স্পেস স্টেশনের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করেন। ভারতের প্রাক্তন ইসরো (ISRO) বিজ্ঞানী মনীশ পুরোহিত জানান, মহাকাশচারী হওয়া একটি পূর্ণকালীন পেশা, ঠিক যেমন ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার। মজার বিষয় হলো, দেশভেদে এদের নাম আলাদা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তারা ‘অ্যাস্ট্রোনট’, রাশিয়ায় ‘কসমোনট’, চীনে ‘তাইকোনট’ এবং ভারতে তাদের বলা হয় ‘গগন্যাত্রী’।

শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রস্তুতি: একজন মহাকাশচারী হতে গেলে আপনাকে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং বা গণিত (STEM) বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা নিতে হবে। গবেষণা বিজ্ঞানী ইয়াশিকা পণ্ডিতার মতে, মহাকাশযানে মূলত দুই ধরণের ভূমিকা থাকে—এক দল পাইলট বা কমান্ডার হিসেবে কাজ করেন, অন্য দল মিশন স্পেশালিস্ট হিসেবে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও স্যাটেলাইট রক্ষণাবেক্ষণ করেন।

ইসরোর বিশেষ উদ্যোগ: ভারত এখন মহাকাশ বিজ্ঞানে বিশ্বসেরা হওয়ার পথে। ইসরো দেশজুড়ে ২৩৭ জন শিক্ষক ও বেশ কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে মহাকাশ বিজ্ঞানের প্রসারে নিযুক্ত করেছে। নিম্বাস এডুকেশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এখন শিক্ষার্থীদের গ্রাউন্ড লেভেল থেকে গাইড করছে।

পেশাদার জীবন: মহাকাশচারীরা যখন মহাকাশে থাকেন না, তখনো তারা বসে থাকেন না। তারা প্রতিনিয়ত নতুন প্রযুক্তি শেখেন, শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখেন এবং গ্রাউন্ড সাপোর্ট স্টাফদের প্রশিক্ষণ দেন। সুতরাং, আপনি যদি বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী হন এবং অজানাকে জানার অদম্য জেদ থাকে, তবে মহাকাশের দরজা আপনার জন্যও খোলা।