কল্যাণ-মহুয়া ‘মধুরেণ সমাপয়েৎ’? মুখ দেখাদেখি বন্ধ থেকে হাসিমুখে আড্ডা— এক বিয়েবাড়িতেই বদলে গেল সমীকরণ!

রাজনীতিতে একটা বহুল প্রচলিত কথা আছে— “চিরস্থায়ী শত্রু বা বন্ধু বলে কিছু হয় না।” সেই প্রবাদেরই যেন বাস্তব প্রতিফলন দেখা গেল তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষের মেয়ের বিয়ের আসরে। যেখানে মূল আকর্ষণ হয়ে দাঁড়ালেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। যাঁদের মধ্যেকার ‘সাপ-নেউলে’ সম্পর্ক বঙ্গ রাজনীতির কারোরই অজানা নয়, তাঁদেরই রবিবার দেখা গেল একেবারে ভিন্ন মেজাজে।
অতীতের দিকে তাকালে দেখা যায়, কল্যাণ-মহুয়া দ্বৈরথ বরাবরই ছিল সোজাসাপ্টা। গত বছর অগস্টে তৃণমূলের নতুন পার্টি অফিসের সামনে মহুয়াকে দেখে কল্যাণ প্রকাশ্যেই বিরক্তি প্রকাশ করে বলেছিলেন, “কার মুখ দেখলাম, আজ দিনটাই গেল!” পাল্টা মহুয়াও ছাড়েননি। কসবা কলেজের ঘটনায় কল্যাণের মন্তব্যকে ‘নারীবিদ্বেষী’ বলে তোপ দেগেছিলেন তিনি। সমাজমাধ্যম থেকে সংসদ চত্বর— তাঁদের এই বাগযুদ্ধ বারবার শিরোনামে এসেছে। কল্যাণ সরাসরি বলেছিলেন, তিনি নারীবিদ্বেষী নন, তবে তাঁর ঘৃণা কেবল একজনের প্রতি— আর তিনি হলেন মহুয়া মৈত্র।
কিন্তু রবিবারের ছবি অন্য কথা বলছে। বিয়ের আসরে তোলা অধিকাংশ ছবিতে কল্যাণের পাশেই দেখা গিয়েছে মহুয়াকে। কখনও দুজনে হাসিমুখে গল্প করছেন, কখনও বা হালকা মেজাজে একে অপরের দিকে তাকিয়ে হাসছেন। যা দেখে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের একাংশও রীতিমতো চমকে গিয়েছেন। তবে কি বিয়ের সানাইয়ের সুরেই বাজল মান-ভঞ্জনের গান? দীর্ঘদিনের তিক্ততা ভুলে দুই হেভিওয়েট সাংসদ কি নতুন কোনো রাজনৈতিক রসায়নের ইঙ্গিত দিলেন? আপাতত এই ‘অপরিচিত’ ঘনিষ্ঠতা নিয়েই তোলপাড় রাজনৈতিক মহল।