অজিত পাওয়ারের মর্মান্তিক মৃত্যুতে টনক নড়ল কেন্দ্রের! দেশের ৪০০ বিমানঘাঁটিতে শুরু জরুরি তল্লাশি

গত মাসে মহারাষ্ট্রের বারামতিতে এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের অকাল প্রয়াণ নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা দেশকে। এই ঘটনার পরই নড়েচড়ে বসেছে বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক। দেশের আকাশপথে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবার দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ৪০০টি নন-এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (ATC) বিমানঘাঁটি বা এয়ারস্ট্রিপ পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র।

বেসামরিক বিমান পরিবহন অধিদপ্তর (DGCA) এবং বিভিন্ন রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হতে চলেছে। লক্ষ্য একটাই—ভিভিআইপি, রাজনীতিবিদ এবং সাধারণ মানুষের আকাশপথের যাত্রা সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত করা।

৪০০টি রানওয়েতে কেন দুর্ঘটনার আতঙ্ক? বর্তমানে ভারতে প্রায় ৪০০টি এমন রানওয়ে রয়েছে যেগুলি রাজ্য সরকার, বেসরকারি সংস্থা বা ফ্লাইং ট্রেনিং অর্গানাইজেশন (FTO) দ্বারা পরিচালিত হয়। এগুলিকে ‘ক্যাটাগরি-এ’ বিমানবন্দর বলা হয়, যেখানে কোনো নির্দিষ্ট এটিসি পরিষেবা নেই। ফলে রানওয়ে রক্ষণাবেক্ষণ, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা বা জরুরি উদ্ধারকার্যের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট মানদণ্ড মানা হয় না। চার্টার বিমান এবং রাজনৈতিক উড়ানগুলি প্রায়ই এই রানওয়েগুলি ব্যবহার করে, যা বড়সড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছিল।

তদন্তে যা খতিয়ে দেখবে ডিজিসিএ: মন্ত্রকের নির্দেশে একটি উচ্চপর্যায়ের টিম ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। তারা মূলত নিচের বিষয়গুলি খতিয়ে দেখবে:

  • অবকাঠামোগত ঘাটতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার হাল।

  • অগ্নিনির্বাপণ প্রস্তুতি এবং জরুরি কালীন ব্যাকআপ।

  • স্থানীয় জেলা কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় ব্যবস্থা।

  • উইন্ডসক (Windsock) এবং আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের সুবিধা।

নিরাপত্তার নতুন রূপরেখা: বিমান পরিবহন বিশেষজ্ঞ মার্ক মার্টিনের মতে, এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা মোটেও ব্যয়সাপেক্ষ নয়। মাত্র ২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে প্রতিটি রানওয়েতে সিসিটিভি, উইন্ডসক এবং আবহাওয়া তথ্যের ডিজিটাল প্রকাশের ব্যবস্থা করা সম্ভব। রাজ্য সরকারগুলি যদি মাসিক ভিত্তিতে নিরাপত্তা অডিট করে, তবে বারামতির মতো দুর্ঘটনা রোধ করা সময়ের অপেক্ষা মাত্র। মধ্যপ্রদেশের উজ্জাইন থেকে বিহারের ভাগলপুর—দেশের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ অনিয়ন্ত্রিত এয়ারস্ট্রিপ এখন কড়া নজরদারির আওতায় আসতে চলেছে।