শিক্ষা জগতের ‘নোবেল’ জয় ভারতের! ১ মিলিয়ন ডলার জিতে রাতারাতি কোটিপতি মুম্বইয়ের রুবেল নাগী

ভারতের মুকুটে যুক্ত হলো আরও এক উজ্জ্বল পালক। বিশ্বমঞ্চে তেরঙ্গার জয়গান গাইলেন মুম্বইয়ের প্রখ্যাত শিল্পী ও সমাজকর্মী রুবেল নাগী (Rouble Nagi)। দুবাইয়ে আয়োজিত ‘ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্ট সামিট’-এ তাঁকে ২০২৬ সালের সম্মানজনক ‘গ্লোবাল টিচার প্রাইজ’-এ ভূষিত করা হয়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য দেওয়া এই পুরস্কারকে গোটা বিশ্ব শিক্ষা জগতের “নোবেল পুরস্কার” হিসেবে গণ্য করে। ১৩৯টি দেশের ৫০০০-এর বেশি প্রতিযোগীকে পিছনে ফেলে এই শিরোপা ছিনিয়ে নিয়েছেন ভারতের এই অগ্নিকন্যা।

রাতারাতি কোটিপতি রুবেল: ভার্কি ফাউন্ডেশন এবং ইউনেস্কোর (UNESCO) যৌথ উদ্যোগে দেওয়া এই পুরস্কারের সঙ্গে রুবেল নাগী পেলেন ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৯ কোটি টাকারও বেশি। দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স শেখ হামদান বিন মহম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের হাত থেকে তিনি এই বিরল সম্মান গ্রহণ করেন।

কেন এই সম্মান? রুবেল নাগী পেশায় কোনো প্রথাগত স্কুল শিক্ষক নন, কিন্তু তাঁর পাঠশালা বিস্তৃত ভারতের আনাচে-কানাচে। মূলত তাঁর উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা ‘Living Walls of Learning’-এর জন্যই তিনি বিশ্বসেরা হয়েছেন। কী এই প্রকল্প? রুবেল দেখেন, দেশের অনেক প্রান্তিক শিশু দারিদ্র্যের কারণে স্কুলের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে পারে না। তিনি স্থির করেন, স্কুলই পৌঁছে যাবে শিশুদের কাছে। বস্তির জরাজীর্ণ দেয়ালগুলিকে তিনি রঙিন ম্যুরালে রূপান্তরিত করেন। যেখানে আঁকা থাকে অক্ষর, সংখ্যা, বিজ্ঞান ও ইতিহাসের নানা পাঠ। অর্থাৎ, একটি সাধারণ দেয়ালই হয়ে ওঠে শিশুদের পাঠ্যপুস্তক।

‘মিসাল মুম্বই’ ও বদলে যাওয়া ছবি: রুবেলের ফাউন্ডেশন (RNAF) এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন বস্তি ও পিছিয়ে পড়া গ্রামে ৮০০-র বেশি লার্নিং সেন্টার তৈরি করেছে। তাঁর ‘মিসাল মুম্বই’ উদ্যোগের মাধ্যমে কয়েক হাজার ভাঙাচোরা ঘর মেরামত ও রঙিন করার পাশাপাশি লক্ষ লক্ষ শিশুকে শিক্ষার মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীরে জন্ম নেওয়া রুবেল লন্ডনের স্লেড স্কুল অফ ফাইন আর্ট থেকে পড়াশোনা করেছেন। আজ তাঁর সৃজনশীলতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা ভারতকে বিশ্বের দরবারে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিল।