ভোটের মুখে বঙ্গ বিজেপিতে তুলকালাম! রাজ্য সম্পাদকের বিরুদ্ধে ৯১ লক্ষ টাকার প্রতারণার অভিযোগ

বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই বড়সড় ধাক্কা খেল বিজেপি। পূর্ব মেদিনীপুরে দলের রাজ্য সম্পাদক সিন্টু সেনাপতির বিরুদ্ধে ৯১ লক্ষ টাকারও বেশি আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ তুললেন দলেরই এক প্রবীণ নেতা। নারায়ণকিঙ্কর মিশ্র নামে ওই নেতার দাবি, সিন্টু সেনাপতি তাঁকে সল্টলেকে আটকে রেখে জমিজমা বিক্রি করতে বাধ্য করেছেন এবং তাঁর সমস্ত সম্পত্তি হাতিয়ে নিয়েছেন। পাওনা টাকা চাইতে গেলে প্রবীণ এই নেতার মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ।

পাঁশকুড়ার প্রবীণ বিজেপি নেতা নারায়ণকিঙ্কর বাবু অতীতে বহুবার বিজেপির টিকিটে বিধানসভা ভোটে লড়েছেন। তাঁর অভিযোগ, উচ্চ পদ এবং ফের প্রার্থী করার টোপ দিয়ে তাঁর কাছ থেকে দফায় দফায় মোট ৯১ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা নিয়েছেন সিন্টু সেনাপতি। প্রবীণ নেতার বিস্ফোরক দাবি, “১৯৮৮ সাল থেকে দল করছি, কিন্তু ২০১১ সালে সিন্টুর সঙ্গে আলাপ হওয়ার পর থেকেই আমার সর্বনাশ শুরু হয়। ১০ টাকার স্ট্যাম্প পেপারে সই করে টাকা ফেরতের প্রতিশ্রুতি দিলেও আজ আমি নিঃস্ব।” তিনি আরও জানান, দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কাছে নালিশ জানিয়েও কোনো বিচার না পাওয়ায় তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং তমলুক আদালতে গোপন জবানবন্দি দিয়েছেন।

যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন বিজেপি রাজ্য সম্পাদক সিন্টু সেনাপতি। তাঁর পাল্টা দাবি, নারায়ণকিঙ্কর বাবু বর্তমানে দলের সঙ্গে যুক্ত নন এবং তৃণমূলের প্ররোচনায় তাঁকে বদনাম করার চেষ্টা করছেন। এমনকি প্রবীণ নেতাকে ‘জমি দালাল’ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। এই ঘটনায় বিজেপিকে বিঁধতে ছাড়েনি তৃণমূল। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়েছে, বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সত্যতা মানুষের সামনে আসা প্রয়োজন এবং তাঁরা আশা করেন পুলিশি তদন্তে নারায়ণকিঙ্কর বাবু বিচার পাবেন।