ট্রেন যাত্রীদের জন্য বড় খবর! RAC টিকিট থাকলেও এবার ফেরত পাবেন টাকা?

রেলে যাতায়াতের সময় কনফার্ম টিকিট না পেলে অনেক যাত্রীই আরএসি (RAC) বা ‘রিজার্ভেশন এগেনস্ট ক্যানসেলেশন’ টিকিট পান। কিন্তু এবার এই প্রথা নিয়েই বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল সংসদের পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি (PAC)। ট্রেনের টিকিটের দাম এবং গতিবেগ—উভয় ক্ষেত্রেই রেলকে কড়া পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার সংসদে পেশ করা ‘পাংচুয়ালিটি অ্যান্ড ট্রাভেল টাইম ইন ট্রেন অপারেশনস ইন ইন্ডিয়ান রেলওয়েজ’ শীর্ষক রিপোর্টে জানানো হয়েছে, আরএসি টিকিটধারী যাত্রীরা পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করলেও চার্ট তৈরির পর তাদের আলাদা বার্থ দেওয়া হয় না। পরিবর্তে অন্য যাত্রীর সঙ্গে আসন ভাগ করে বসে যেতে হয়। কমিটির স্পষ্ট বক্তব্য, যেখানে একজন কনফার্ম টিকিটধারী যাত্রী এবং আরএসি যাত্রী একই ভাড়া দিচ্ছেন, সেখানে সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে কেন এই বৈষম্য থাকবে?
এর প্রতিকারে সংসদীয় কমিটি রেল মন্ত্রককে এক যুগান্তকারী সুপারিশ করেছে। বলা হয়েছে, যে সকল যাত্রীর টিকিট চার্ট তৈরির পরও কনফার্ম হবে না, তাদের টিকিটের ভাড়ার একটি বড় অংশ রিফান্ড বা ফেরত দিতে হবে। ‘অর্ধেক সিট তো অর্ধেক ভাড়া’—এই নীতি কার্যকর করার জন্য রেলওয়েকে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
পাশাপাশি, ‘সুপারফাস্ট’ ট্রেনের তকমা ও তার গতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কমিটি। ২০০৭ সালের নিয়ম অনুযায়ী, ব্রড গেজে ঘণ্টায় ৫৫ কিলোমিটার গতিবেগ থাকলেই ট্রেনটিকে সুপারফাস্ট বলা হয়। কমিটির মতে, বর্তমান প্রযুক্তি ও উন্নত পরিকাঠামোর যুগে এই বেঞ্চমার্ক হাস্যকরভাবে কম। রিপোর্টে দেখা গেছে, দেশের ৪৭৮টি সুপারফাস্ট ট্রেনের মধ্যে ১২৩টি ট্রেনই গন্তব্যে পৌঁছাতে গড় ৫৫ কিলোমিটার গতিবেগ বজায় রাখতে পারে না। অর্থাৎ, সুপারফাস্টের সারচার্জ নিলেও ট্রেনগুলি প্যাসেঞ্জারের গতিতে চলছে। অবিলম্বে এই ট্রেনগুলির গতি ও শ্রেণি পর্যালোচনা করার নির্দেশ দিয়েছে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি।