স্বাধীনতার পর প্রথমবার! হাতে সংবিধান নিয়ে ঘোড়ায় চড়লেন দলিত বর, ভাঙল কয়েক দশকের কুপ্রথা

মধ্যপ্রদেশের দামোহ জেলার কুয়ান খেদা মাহদেলা গ্রাম এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল। স্বাধীনতার পর গত কয়েক দশকে যা কখনও ঘটেনি, ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তাই করে দেখালেন পেশায় শিক্ষক বা সমাজকর্মী হতে চাওয়া এক দলিত যুবক। উচ্চবর্ণের রক্তচক্ষু আর দীর্ঘদিনের কুপ্রথা ভেঙে, হাতে ভারতের সংবিধান নিয়ে ঘোড়ায় চড়ে নিজের বিয়ের মিছিল বের করলেন নন্দু বানসাল। বাবাসাহেব আম্বেদকরের দেওয়া সমানাধিকারের সেই বই হাতে নিয়ে তিনি যখন গ্রামের পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তা কেবল একটি বিয়ের মিছিল ছিল না, ছিল কয়েক দশকের শৃঙ্খল ভাঙার উৎসব।
যে প্রথাকে হার মানাল সংবিধান: গ্রামবাসীদের মতে, দেশ স্বাধীন হলেও এই গ্রামে অলিখিত নিয়ম ছিল যে দলিতরা বিয়ের মিছিলে ঘোড়ায় চড়তে পারবেন না। এই বৈষম্যের বেড়াজাল ভাঙতে চেয়েছিলেন নন্দু। তবে আতঙ্ক ছিল হামলা বা বাধার। তাই নন্দুর পরিবার আগেভাগেই জেলা পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট (এসপি) এবং কালেক্টরের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়ে নিরাপত্তার আবেদন জানান। প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে গ্রামে শান্তি বৈঠক করে এবং নিশ্চিত করে যে কোনো জাতপাত নির্বিশেষে যে কেউ ঘোড়ায় চড়তে পারেন।
পুলিশি পাহারায় তৈরি হলো ইতিহাস: কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিয়ের দিন গ্রামে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। ব্যান্ড আর ডিজে-র তালে যখন মিছিল শুরু হয়, তখন দেখা যায় বর নন্দু বানসাল ঘোড়ায় বসে আছেন এবং তাঁর হাতে উঁচু করে ধরা ভারতের সংবিধান। এই প্রতীকী বার্তা ছিল পরিষ্কার— সংবিধানই দেশের সর্বোচ্চ শক্তি যা সবাইকে সমান অধিকার দেয়। উচ্চবর্ণের পক্ষ থেকে কোনো প্রকাশ্য বিরোধিতা না আসায় দলিত সম্প্রদায়ের মধ্যে স্বস্তির নিঃশ্বাস দেখা গিয়েছে।
আগামীর পথ চলা: তহসিলদার উমেশ তিওয়ারি জানিয়েছেন, গ্রামবাসীদের সাথে আলোচনার পর পরিস্থিতি শান্ত ছিল। স্থানীয় দলিত সম্প্রদায়ের মানুষের দাবি, বাবাসাহেবের সংবিধানের কারণেই আজ এই মিথ ভাঙা সম্ভব হয়েছে। তাঁরা আশা করছেন, এই ঘটনার পর ভবিষ্যতে তাঁদের সম্প্রদায়ের যুবকদের আর কোনো অধিকারের জন্য পুলিশের দ্বারস্থ হতে হবে না।