আলিমুদ্দিনে ধুন্ধুমার! হুমায়ুন ইস্যুতে সেলিমের ওপর ফুঁসছে শরিকরা, মেজাজ হারিয়ে বৈঠক ছাড়লেন নরেন

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বাম দুর্গে কি বড়সড় ফাটল দেখা দিল? তৃণমূল ত্যাগের জল্পনার মাঝে হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে মহম্মদ সেলিমের বৈঠক ঘিরে এখন তোলপাড় আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। বৃহস্পতিবার বামফ্রন্টের বৈঠকে পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা নরেন চট্টোপাধ্যায় মাঝপথেই বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যান। নির্ধারিত সময়ের আগে তাঁর এই বেরিয়ে যাওয়া এবং পরে ফিরে এসে ফের বেরিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে বামফ্রন্টের অন্দরে চরম অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।

সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকে হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে সেলিমের যোগাযোগ নিয়ে শরিক দলগুলি তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দেয়। ফরওয়ার্ড ব্লক, আরএসপি-র মতো শরিকদের সাফ কথা— “মানুষ বামফ্রন্টকে বিশ্বাস করে, অন্য কোনো সুবিধাবাদী নেতা বা দলকে নয়।” ক্ষোভের আগুনে ঘি পড়ে যখন নরেন চট্টোপাধ্যায় মহম্মদ সেলিমের নাম নিয়ে তীর্যক মন্তব্য করেন। যদিও পরে তিনি সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেন যে, দলের জরুরি বৈঠকের কারণে তিনি বেরিয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর শরীরী ভাষা এবং আচমকা প্রস্থানে জল্পনা থামছে না।

শুধু শরিকি বিরোধ নয়, খোদ সিপিএমের অন্দরেও সেলিমের এই ‘কৌশলগত’ চাল নিয়ে প্রশ্নের পাহাড় জমেছে। বুধবার ৫ ঘণ্টার সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে অধিকাংশ সদস্যই প্রশ্ন তোলেন, কেন হুমায়ুনের সঙ্গে কথা বলতে গেলেন রাজ্য সম্পাদক? জবাবে সেলিম জানান, হুমায়ুন বারবার কথা বলতে চাইছিলেন বলেই একপ্রকার বাধ্য হয়ে বৈঠক, কিন্তু কোনো আসন সমঝোতার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি। তবে শরিকদের দাবি, কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক এবং হুমায়ুন ইস্যুতে সেলিমের একলা চলার নীতি বামফ্রন্টের সংহতি নষ্ট করছে। ভোটের আগে আলিমুদ্দিনের এই গৃহযুদ্ধ বামপন্থীদের নির্বাচনী লড়াইয়ে কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।