ভোটের মুখে কল্পতরু মমতা! লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পর এবার সিভিক-আশাকর্মীদের জন্য বড় ধামাকা

কেন্দ্রের আর্থিক বঞ্চনার অভিযোগকে হাতিয়ার করেই ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক জনমুখী ও ‘মাস্টারস্ট্রোক’ বাজেট পেশ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় অন্তর্বর্তী বাজেট পেশের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে তাঁর সরকার বদ্ধপরিকর। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাতা ৫০০ টাকা বৃদ্ধির পর এবার খুশির জোয়ার আশাকর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি এবং সিভিক ভলান্টিয়ারদের ঘরেও।
আশাকর্মী ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের প্রাপ্তি: বাজেটে ঘোষণা করা হয়েছে যে, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে আশাকর্মী (ASHA), অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এবং সহায়িকাদের মাসিক সাম্মানিক ১০০০ টাকা করে বৃদ্ধি পাবে। শুধু বেতন বৃদ্ধিই নয়, আশাকর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে তাঁদের জন্য ১৮০ দিনের সবেতন মাতৃত্বকালীন ছুটির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও, কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু হলে তাঁদের পরিবারের জন্য ৫ লক্ষ টাকার এককালীন সাহায্যের ঘোষণা করা হয়েছে।
সিভিক ভলান্টিয়ার ও চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের জন্য সুখবর: রাজ্যের আইনশৃঙ্খলায় বড় ভূমিকা পালন করা সিভিক ভলান্টিয়ার, ভিলেজ পুলিশ এবং গ্রিন পুলিশদের বেতনও ১০০০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। একই সুবিধা পাবেন প্যারা-টিচার, শিক্ষাবন্ধু, এসএসকে ও এমএসকে কর্মীরাও। তাঁদের ক্ষেত্রেও মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য।
কৃষক ও শ্রমিক কল্যাণ: ক্ষুদ্র চাষি ও খেতমজুরদের জন্য মুখ্যমন্ত্রী এদিন বড় ঘোষণা করেন। যাঁদের নিজস্ব জমি নেই, সেই ক্ষেতমজুরদের বছরে ৪০০০ টাকা অনুদান দেওয়া হবে। ক্ষুদ্র চাষিদের সেচের জল করও সম্পূর্ণ মকুব করা হয়েছে। এছাড়াও ক্ষুদ্র চা-বাগান মালিকদের জন্য কৃষি আয়কর এবং সেস মকুবের সময়সীমা ২০২৭ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে, গিগ ইকোনমি কর্মীদের জন্য স্বাস্থ্যসাথী থেকে শুরু করে ১০০ দিনের কাজের বিকল্প হিসেবে ‘মহাত্মাশ্রী’ প্রকল্প—এই বাজেট গ্রাম থেকে শহর, সব স্তরের মানুষের মন জয়ের এক মরিয়া চেষ্টা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।