পকেটে টান পড়বে না আর! ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে বড় ধামাকা, ‘ভারত ট্যাক্সি’র হাত ধরে পরিবহণে নতুন বিপ্লব

ভারতের ক্যাব পরিষেবা বা রাইড-হেলিং বাজারে আজ এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ওলা, উবার এবং র‍্যাপিডো-র মতো জায়ান্ট কোম্পানিগুলোর একাধিপত্যে থাবা বসাতে সরকারি ছত্রছায়ায় আত্মপ্রকাশ করছে ‘ভারত ট্যাক্সি’ (Bharat Taxi)। আজ, বৃহস্পতিবার ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে কেন্দ্রীয় সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহ আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরিষেবার উদ্বোধন করবেন। এটি দেশের প্রথম ক্যাব প্ল্যাটফর্ম যা সম্পূর্ণ ‘সহকারী মডেল’ বা সমবায় ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।

কেন বিশেষ এই ‘ভারত ট্যাক্সি’? মাল্টি-স্টেট কো-অপারেটিভ সোসাইটি অ্যাক্ট, ২০০২-এর অধীনে নিবন্ধিত এই প্ল্যাটফর্মটি নিছক কোনো অ্যাপ নয়, বরং একটি বড় সমবায় আন্দোলন। এর লক্ষ্য হলো বেসরকারি কোম্পানিগুলোর আকাশছোঁয়া ‘সার্জ প্রাইসিং’ (Surge Pricing) থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্তি দেওয়া এবং চালকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করা। দেশের ৮টি বড় সমবায় সংস্থা এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে, যা একে আর্থিক ও কৌশলগতভাবে শক্তিশালী করেছে।

সাফল্যের সঙ্গে শেষ হয়েছে ট্রায়াল রান সরাসরি বাজারে আসার আগে গত ২ ডিসেম্বর থেকে দিল্লি-এনসিআর এবং গুজরাটে এর পাইলট প্রজেক্ট চালানো হয়েছিল। দুই মাসের এই পরীক্ষায় চালক ও যাত্রী উভয়ের থেকেই অভূতপূর্ব সাড়া মিলেছে। চালকরা বেশি লভ্যাংশ পাওয়ায় এবং যাত্রীরা কম ভাড়ায় নিরাপদ যাতায়াত করতে পারায় সরকার এটিকে জাতীয় স্তরে লঞ্চ করার সবুজ সংকেত দিয়েছে।

যাত্রী ও চালকদের জন্য বড় সুখবর:

  • সস্তা সফর: ওলা-উবারের মতো কোনো লুকানো চার্জ বা পিক আওয়ারে মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া থাকবে না।

  • চালকদের জয়জয়কার: বেসরকারি অ্যাপগুলো ২৫-৩০% কমিশন কেটে নিলেও, ‘ভারত ট্যাক্সি’ চালকদের আয়ের বড় অংশ তাদের হাতেই তুলে দেবে।

  • নিরাপত্তা: সরকারি ও সমবায় নজরদারি থাকায় সুরক্ষার মান হবে অত্যন্ত উন্নত।

২০২৮-এর লক্ষ্যমাত্রা: গত ১ জানুয়ারি থেকে দিল্লির কিছু এলাকায় সীমিত পরিসরে এই পরিষেবা শুরু হলেও, আজকের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর এর বিস্তার হবে ঝড়ের গতিতে। কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য হলো ২০২৮ সালের মধ্যে ভারতের প্রতিটি রাজ্য এবং প্রতিটি শহরে ‘ভারত ট্যাক্সি’ পৌঁছে দেওয়া।

Samrat Das
  • Samrat Das