আরব সাগরে যুদ্ধের দামামা! মার্কিন রণতরী লক্ষ্য করে ধেয়ে এল ইরানি ড্রোন, মাঝআকাশে ধ্বংস করল আমেরিকা

আরব সাগরের নীল জলরাশি এখন বারুদের গন্ধে ভারী। ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধ এবার সরাসরি সামরিক সংঘাতের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেল। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’-কে লক্ষ্য করে ধেয়ে আসা একটি ইরানি ড্রোন গুলি করে নামিয়েছে মার্কিন বাহিনী। পেন্টাগনের দাবি, ড্রোনটি অত্যন্ত আগ্রাসী ভঙ্গিতে রণতরীর দিকে এগোচ্ছিল, যা বড়সড় নাশকতার ইঙ্গিত দিচ্ছিল।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) সূত্রে খবর, ড্রোনটি ছিল ইরানের তৈরি অত্যাধুনিক ‘শাহেদ ১৩৯’। রণতরীর নিরাপত্তার স্বার্থে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন থেকে একটি এফ-৩৫সি (F-35C) যুদ্ধবিমান তৎক্ষণাৎ উড্ডয়ন করে এবং মাঝআকাশেই ড্রোনটিকে ধ্বংস করে দেয়। ইরানের দক্ষিণ উপকূল থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দূরে এই ঘটনাটি ঘটেছে। যদিও এই ঘটনায় কোনও মার্কিন সেনার হতাহতের খবর মেলেনি।

তবে উত্তেজনা কেবল এখানেই সীমাবদ্ধ নেই। এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই হরমুজ প্রণালীতে আমেরিকার পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজকে ইরানের দুটি দ্রুতগামী নৌকা এবং একটি ‘মোহাজের’ ড্রোন তাড়া করেছিল বলে অভিযোগ তুলেছে ওয়াশিংটন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এই ঘটনাকে সরাসরি উস্কানি হিসেবে দেখছে।

অন্যদিকে, ইরানের অভ্যন্তরে চলমান বিক্ষোভ এবং তার প্রেক্ষিতে ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দুই দেশের সম্পর্ককে খাদের কিনারায় নিয়ে এসেছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, ৮৬ বছর বয়সী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, আমেরিকা যদি সামরিক আগ্রাসন না থামায়, তবে গোটা মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধ শুরু হবে। আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা, খামেনির এই হুঁশিয়ারি গত কয়েক দশকের মধ্যে সবথেকে কঠোর। বর্তমানে আরব সাগরে মার্কিন রণতরীর উপস্থিতি এবং ইরানের অনড় মনোভাব বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।