মুম্বই বিমানবন্দরে হাড়হিম কাণ্ড! রানওয়েতে দুই বিমানের ডানায় ধাক্কা, অল্পের জন্য বাঁচলেন শয়ে শয়ে যাত্রী

মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের এক বড়সড় দুর্ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছিল মুম্বই বিমানবন্দর। বুধবার সকালে রানওয়েতে এয়ার ইন্ডিয়া এবং ইন্ডিগোর দুটি বিমানের ডানায় একে অপরের সঙ্গে ঘর্ষণ লাগে। অল্পের জন্য এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড বা বড়সড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এই ঘটনায় কোনো যাত্রী আহত না হলেও রানওয়েতে দুই বিমানের এই বিপজ্জনক অবস্থান নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

জানা গিয়েছে, মুম্বই থেকে কোয়েম্বাত্তুরগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটি যখন টেক-অফের জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল, তখনই পাশের ইন্ডিগো বিমানের ডানার সঙ্গে সেটির ডানার ধাক্কা লাগে। ঘটনার পরপরই সুরক্ষার খাতিরে এয়ার ইন্ডিয়ার ওই বিমানের উড়ান স্থগিত করে দেওয়া হয়। সংস্থার পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, বিমানে থাকা সমস্ত যাত্রী ও ক্রু মেম্বাররা সুরক্ষিত আছেন। তবে ঠিক কী কারণে দুটি বিমান বিপজ্জনকভাবে কাছাকাছি চলে এল, তা নিয়ে এখনও এয়ার ইন্ডিয়া বা ইন্ডিগো কর্তৃপক্ষের তরফে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা মেলেনি। ডিজিসিএ (DGCA) এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরেই বিমান নিরাপত্তা নিয়ে গোটা দেশ উদ্বেল। পুণের বারামতীতে বিমান ভেঙে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন মহারাষ্ট্রের দাপুটে নেতা অজিত পওয়ারসহ ৫ জন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, ওড়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বিমানটি কাত হয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মুম্বই বিমানবন্দরের এই গাফিলতি নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে এটিসি (ATC) বা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের ভূমিকা নিয়ে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই অজিত পওয়ারের মৃত্যুর ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এরই মাঝে বুধবারের এই ঘটনা বুঝিয়ে দিল, ভারতীয় আকাশসীমায় যাত্রী নিরাপত্তা এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে।