রাজ কাপুর ও নার্গিসের ‘গোপন সন্তান’ ডিম্পল কাপাডিয়া? বলিউডের সবথেকে চর্চিত বিতর্কে মুখ খুললেন অভিনেত্রী!

১৯৭৩ সালে ১৬ বছরের এক কিশোরী যখন রূপালী পর্দায় প্রথমবার পা রাখেন, তখন তাঁর রূপের জাদুতে বুঁদ হয়েছিল গোটা ভারত। রাজ কাপুরের হাত ধরে ‘ববি’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করা সেই ডিম্পল কাপাডিয়া রাতারাতি হয়ে ওঠেন মেগাস্টার। কিন্তু এই আকাশছোঁয়া সাফল্যের সঙ্গেই জুটেছিল এক ভয়ংকর বদনাম। সেই সময় বিটাউনের অলিতে-গলিতে রটে গিয়েছিল—ডিম্পল আসলে রাজ কাপুর ও নার্গিসের ‘লাভ চাইল্ড’ বা নিষিদ্ধ সম্পর্কের সন্তান!

কেন এই অদ্ভুত গুজব? আসলে ডিম্পল কাপাডিয়ার চেহারার সঙ্গে কিংবদন্তি অভিনেত্রী নার্গিসের এক অদ্ভুত মিল লক্ষ্য করেছিলেন দর্শকরা। তার ওপর ‘ববি’ ছবিতে ডিম্পলের পরিচিতি দৃশ্যটি রাজ কাপুর ঠিক সেভাবেই সাজিয়েছিলেন, যেভাবে বাস্তবে প্রথমবার নার্গিসের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছিল। এই মিলগুলোই সাধারণ মানুষের কল্পনাকে উসকে দিয়েছিল। গুজব এতটাই চরমে পৌঁছেছিল যে, অনেকে দাবি করতে শুরু করেন নার্গিস ও রাজ কাপুরের প্রেমের ফসল এই ডিম্পল, যাকে পরে কাপাডিয়া পরিবার দত্তক নেয়।

নার্গিস ও রাজ কাপুরের প্রেমকাহিনি: রাজ কাপুর বিবাহিত জেনেও নার্গিস তাঁর প্রেমে পড়েছিলেন এবং দীর্ঘদিন এই সম্পর্কের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন। এমনকি তিনি রাজ কাপুরের দ্বিতীয় স্ত্রী হওয়ার আইনি পরামর্শও নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত পূর্ণতা পায়নি, যা নার্গিসকে চরম অবসাদের দিকে ঠেলে দেয়। পরে ‘মাদার ইন্ডিয়া’র সেটে অগ্নিকাণ্ড থেকে সুনীল দত্ত তাঁকে রক্ষা করলে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

কী বললেন ডিম্পল ও নার্গিস? বহু বছর আগে এক সাক্ষাৎকারে এই গুজবকে হেসে উড়িয়ে দিয়েছিলেন ডিম্পল। তীব্র বিরক্তি প্রকাশ করে তিনি বলেছিলেন, “আমার সম্পর্কে শোনা এটাই সবথেকে পাগলামি ভরা খবর। ভাবতে পারেন, আমি সঞ্জয় দত্তর বোন? এটা একেবারেই অসম্ভব।” অন্যদিকে, এই কদর্য গুঞ্জন কানে গিয়েছিল স্বয়ং নার্গিসেরও। তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ‘মাদার ইন্ডিয়া’ অভিনেত্রী বলেছিলেন, “যে এই রটনা শুরু করেছে সে অত্যন্ত নিচ মানসিকতার মানুষ। ‘আওয়ারা’ ছবিতে আমার চরিত্রটির আদলেই রাজ কাপুর ‘ববি’র কল্পনা করেছিলেন—কেবল এইটুকুর ওপর ভিত্তি করে এমন বোকা বোকা সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।” বলিউডের সেই স্বর্ণযুগের এই রহস্য আজও আর্কাইভের পাতায় মাঝেমধ্যেই ফিরে আসে।