দিল্লিতে মমতার পাশে ‘মৃত’ বাঙালিরা! কমিশনের বিরুদ্ধে এআই-ভুল ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তোলপাড় রাজধানী

সোমবারের পর মঙ্গলবার— দিল্লির রাজপথে দাঁড়িয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ফের রণংদেহি মেজাজে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। মঙ্গলবার যন্তর মন্তরের কাছে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি অভিযোগ করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ (AI) ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে বাংলার লক্ষ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর পাশে এদিন দাঁড়িয়ে ছিলেন সেইসব ‘মৃত’ বাঙালিরা, যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় মৃত বলে চালানো হলেও তাঁরা সশরীরে দিল্লির রাজপথে উপস্থিত থেকে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
এআই বিতর্ক ও ভোটার তালিকা ছাঁটাই: মমতা ব্যানার্জি এদিন অভিযোগ করেন, প্রথম পর্বে প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যাঁদের আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনও সুযোগই দেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, “বিজেপির আইটি সেলের কথা মতো সীমা খান্নারা এআই ব্যবহার করে এই নামগুলো বাদ দিচ্ছে।” তিনি নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরের উদাহরণ টেনে বলেন, “আমার কেন্দ্রে ২ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ৪৫ হাজারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ বিজেপির জেতা কেন্দ্রগুলোতে নাম বাদ দেওয়ার হার অত্যন্ত নগণ্য।” বাংলার মেয়েদের বিয়ের পর পদবি বদল বা ঠিকানা বদলের কারণেও ব্যাপকহারে নাম ছাঁটাই করা হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।
নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ: এর আগে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে তাঁদের ‘উদ্ধত ও মিথ্যাবাদী’ বলে তোপ দেগেছিলেন মমতা। মঙ্গলবারও তাঁর সুর ছিল একই রকম চড়া। তিনি বলেন, “আমি সাতবারের সাংসদ, চারবারের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, কিন্তু এমন উদ্ধত কমিশন আগে কখনও দেখিনি। জ্ঞানেশ কুমাররা কি বিজেপির ক্যাডার হিসেবে কাজ করছেন?” এসআইআর (SIR) ও লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে বাঙালির পদবির ভিন্নতাকেও (বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম ব্যানার্জি) হাতিয়ার করে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি সরব হন।
বাংলার মেয়েদের হয়ে সওয়াল: মমতার গলায় এদিন বারবার ফিরে এসেছে বাংলার মেয়েদের কথা। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের মাত্র তিন মাস আগে এই নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া আসলে বাংলাকে দুর্বল করার চক্রান্ত। বিজেপি বাংলায় ভোটে জিততে না পেরে অগণতান্ত্রিক পন্থা অবলম্বন করছে বলে তিনি দাবি করেন। বক্তব্যের শেষে মহাত্মা গান্ধীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “যাঁরা বাংলাকে ভালোবাসে না, তাঁরাই আজ বাংলার গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে।”