শাহের ৫ বার অনুরোধেও মেলেনি জমি? বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার নিয়ে মমতাকে তীব্র আক্রমণ শুভেন্দুর!

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের অরক্ষিত এলাকা এবং কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার মারাত্মক অভিযোগ তুললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, জাতীয় নিরাপত্তার তোয়াক্কা না করে রাজনৈতিক স্বার্থে সীমান্তে জমি আটকে রাখছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।

শুভেন্দু অধিকারী এদিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সংসদের একটি ভিডিও ক্লিপ তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, দেশের অন্যান্য রাজ্যে সীমান্ত ফেন্সিংয়ের কাজ প্রায় ১০০ শতাংশ শেষ হলেও পশ্চিমবঙ্গে তা ঝুলে রয়েছে শুধুমাত্র নবান্নের অসহযোগিতার কারণে। শুভেন্দুর বিস্ফোরক অভিযোগ, “কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজে অন্তত পাঁচবার মুখ্যমন্ত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করেছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব পাঁচবার কলকাতায় এসেছেন। ভারত সরকার মোট আটবার যোগাযোগ করেছে, তা সত্ত্বেও জমি দিচ্ছে না রাজ্য।”

পরিসংখ্যান দিয়ে শুভেন্দু জানান, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মোট ২২১৬ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় ১৬০০ কিলোমিটারই পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে যুক্ত। এই বিশাল সীমান্ত এলাকা অরক্ষিত থাকায় অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান বাড়ছে। তিনি সরাসরি তোপ দেগে বলেন, “রাজ্য সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে জমি দিচ্ছে না যাতে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী এবং রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা দেওয়া যায়। এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক চরম বিপদ।”

কলকাতা হাইকোর্টের সাম্প্রতিক হস্তক্ষেপের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বিরোধী দলনেতা জানান, আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে ফেন্সিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় জমির ব্যবস্থা করতে হবে। শুভেন্দুর কথায়, “জমির ব্যবস্থা করা রাজ্য সরকারের সাংবিধানিক ও আইনানুগ দায়িত্ব। কেন্দ্র টাকা দিলেও জেলা প্রশাসন বিজ্ঞপ্তি জারি না করলে কাজ করা সম্ভব নয়।” সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে শুভেন্দুর এই আক্রমণ লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজনৈতিক মহলে নতুন মাত্রা যোগ করল।