‘সমঝোতায় এসো ইরান, নইলে…’, খামেনির ‘আঞ্চলিক যুদ্ধ’র হুঁশিয়ারিতে পাল্টা চাপ ট্রাম্পের

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে আবারও ঘনাচ্ছে চরম অস্থিরতার কালো মেঘ। একদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লা আলি খামেনির ‘আঞ্চলিক যুদ্ধের’ হুঁশিয়ারি, অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমঝোতার বার্তা—সব মিলিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্ক এখন সুতোর ওপর দাঁড়িয়ে। সোমবার ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প জানান, তিনি এখনও কূটনৈতিক সমাধানে আশাবাদী, তবে ইরান পিছু না হটলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে।

খামেনির চরম হুঁশিয়ারি: সম্প্রতি এক্স হ্যান্ডেলে (পূর্বতন টুইটার) খামেনি আমেরিকাকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে লেখেন, “আমেরিকানদের জানা উচিত, যদি তারা যুদ্ধ শুরু করে তবে এবার তা শুধু সীমান্তে সীমাবদ্ধ থাকবে না, পুরো অঞ্চলজুড়ে সংঘাতের আগুন ছড়িয়ে পড়বে।” তিনি আরও জানান, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ বা বিমানের হুমকিতে ইরান বিন্দুমাত্র ভীত নয়। তাঁর দাবি, ইরানের ভৌগোলিক অবস্থান ও সম্পদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতেই আমেরিকা এই ষড়যন্ত্র করছে।

ট্রাম্পের পাল্টা চাল: খামেনির এই বার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প বলেন, “আমাদের বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী জাহাজগুলো ওখানে খুব কাছেই মোতায়েন রয়েছে। আশা করছি কয়েক দিনের মধ্যেই একটা সমঝোতা হবে। যদি না হয়, তবে বোঝা যাবে খামেনি ঠিক বলেছিলেন কি না।” অর্থাৎ, আলোচনার পথ খোলা রাখলেও যুদ্ধের জন্য আমেরিকা যে পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন ট্রাম্প।

বিশ্ব অর্থনীতির ওপর প্রভাব: এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝেই ভারতের জন্য তেলের বিকল্প পথের প্রস্তাব দিয়েছে আমেরিকা। যদি সত্যিই আঞ্চলিক যুদ্ধ শুরু হয়, তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। খামেনি স্পষ্ট করেছেন যে তারা যুদ্ধ চান না, তবে আক্রান্ত হলে কঠোরতম জবাব দিতে দ্বিধা করবে না তেহরান। এখন দেখার, আগামী কয়েক দিনের কূটনৈতিক তৎপরতা এই বারুদের স্তূপকে শান্ত করতে পারে কি না।