‘হাবড়া ছেড়ে অন্য কেন্দ্রে যেতে হতে পারে’, জ্যোতিপ্রিয়র মন্তব্যে শোরগোল! ছাব্বিশের আগে কি ‘ভীত’ প্রাক্তন মন্ত্রী?

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার আগেই নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র হাবড়া নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূল বিধায়ক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক (বালু)। রবিবার হাবড়ায় এক অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যেই তিনি ইঙ্গিত দেন যে, আগামী নির্বাচনে তাঁকে হয়তো হাবড়া ছেড়ে অন্য কোনও আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হতে পারে। রেশন দুর্নীতি মামলায় জেল খাটা এই হেভিওয়েট নেতার এমন মন্তব্যে জেলা রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ভোটের অঙ্ক ও আশঙ্কার কারণ: জ্যোতিপ্রিয়র এই আশঙ্কার নেপথ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক নির্বাচনের পরিসংখ্যান। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে তিনি মাত্র ৩,৮৪১ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৯ ও ২০২৪— পরপর দুটি লোকসভা নির্বাচনেই হাবড়া বিধানসভা কেন্দ্রে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছে তৃণমূল। ২০২৪-এর লোকসভাতেও বিজেপি এখানে প্রায় ২০ হাজার ভোটের লিড পেয়েছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির জেরেই কি ‘নিরাপদ’ আসনের সন্ধানে জ্যোতিপ্রিয়? প্রশ্ন তুলছে রাজনৈতিক মহল।
ব্যবসায়ীদের হেনস্থা রুখতে হুঁশিয়ারি: এদিন দলীয় কর্মীদের কড়া বার্তা দিয়ে জ্যোতিপ্রিয় বলেন, “আমি থাকি বা না থাকি, কোনও ব্যবসায়ীর থেকে যেন এক টাকাও নেওয়া না হয়। প্রয়োজনে পকেটের টাকা খরচ করুন, কিন্তু ব্যবসায়ীদের উৎপাত করা যাবে না।” তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে গুঞ্জন শুরু হয়েছে যে, জনমানসে ভাবমূর্তি ফেরাতেই কি এই নীতিবাক্য?
বিজেপির কড়া কটাক্ষ: জ্যোতিপ্রিয়র এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে বিজেপি। বিজেপি নেতা তাপস মিত্র বলেন, “রেশন দুর্নীতিকাণ্ডে জেল খাটা এই নেতাকে মানুষ প্রত্যাখ্যান করবেই। উনি বুঝে গিয়েছেন হাবড়ায় তাঁর পরাজয় নিশ্চিত, তাই আগেভাগে পালানোর পথ খুঁজছেন। উনি যেখানেই দাঁড়ান না কেন, মানুষ এবার তৃণমূলকে বাংলা থেকে মুছে দেবে।”