মুর্শিদাবাদে ফের ‘রক্তাক্ত’ নির্বাচনের ছক? আইজি পদে মুকেশ কুমারের ফেরায় বিস্ফোরক অধীর চৌধুরী

বিধানসভা নির্বাচনের ঘণ্টা বাজার আগেই মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশে বড়সড় রদবদল ঘিরে তুঙ্গে উঠল রাজনৈতিক পারদ। জঙ্গিপুর-বহরমপুর রেঞ্জের নতুন আইজি হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন জেলার প্রাক্তন পুলিশ সুপার মুকেশ কুমার। আর এই নিয়োগ ঘিরেই ‘রক্তাক্ত’ নির্বাচনের আশঙ্কা প্রকাশ করলেন প্রদেশ কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। তাঁর অভিযোগ, শাসকদল তৃণমূলের ‘রাজনৈতিক ফৌজ’ হিসেবে কাজ করার লক্ষ্যেই এই প্রশাসনিক সাজবদল।
মুকেশ কুমারের ইতিহাস নিয়ে অধীরের আক্রমণ: রবিবার বহরমপুরে এক সাংবাদিক বৈঠকে অধীর চৌধুরী মনে করিয়ে দেন ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের কথা। তাঁর দাবি, “২০১৮ সালে এই মুকেশ কুমারই মুর্শিদাবাদে এক রক্তাক্ত অধ্যায় রচনা করেছিলেন। তাঁর জন্যই বিরোধীরা সেবার পঞ্চায়েত নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি।” অধীরের অভিযোগ, কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূলের বোর্ড গঠন নিশ্চিত করতে এবং বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পাইয়ে দিতে মুকেশ কুমারের বিশেষ ভূমিকা ছিল।
নতুন জুটিকে ঘিরে বিতর্ক: শনিবার নবান্নের তরফে মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজকে বদলি করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ধৃতিমান সরকারকে। অধীর চৌধুরীর দাবি, ধৃতিমান সরকার আসলে আইজি মুকেশ কুমারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। আইজি ও এসপি-র এই নয়া সমীকরণকে ইঙ্গিত করে অধীর বলেন, “তৃণমূল বুঝে গিয়েছে মুর্শিদাবাদে তাদের দশা বেহাল। তাই এখন জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের দিয়ে ঘুঁটি সাজাচ্ছে।”
গণআন্দোলনের হুঁশিয়ারি: প্রাক্তন সাংসদ সাফ জানিয়েছেন, এই সন্ত্রাস ও প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্বের মোকাবিলায় কংগ্রেস চুপ করে বসে থাকবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “মুর্শিদাবাদে ভোট সন্ত্রাস হলে আমরাও বসে থাকব না। আমাদের পথে নামতে হবে, গণআন্দোলন সংগঠিত করতে হবে।” উল্লেখ্য, বেলডাঙা কান্ড এবং নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যে এই রদবদল ঘিরে জেলার রাজনৈতিক সমীকরণ এখন কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর ওয়াকিবহাল মহলের।