শবে বরাতে বাজি ফাটালেই জেল! কড়া নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের, জারি হলো নতুন সময়সীমা

আসন্ন শবে বরাতে শব্দদূষণ এবং অবাধে বাজি ফাটানো রুখতে ঐতিহাসিক নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। সোমবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, শবে বরাতের রাতে শব্দবাজির তাণ্ডব চালানো যাবে না। আদালতের নির্দেশ অমান্য করলে পুলিশকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করার পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।

আদালতের নির্দেশে কী বলা হয়েছে? কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, শবে বরাতের দিন রাত ১০টা থেকে পরদিন ভোর ৬টা পর্যন্ত কোনোভাবেই আতশবাজি ফাটানো যাবে না। কেবলমাত্র দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের নির্ধারিত নিয়ম মেনে অনুমোদিত ‘সবুজ বাজি’ বা গ্রিন ক্র্যাকার্স ব্যবহারের অনুমতি থাকলেও, তা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।

জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষাপট: আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি শবে বরাত। এই উপলক্ষে কলকাতার পার্ক স্ট্রিট, রিপন স্ট্রিটসহ বিভিন্ন এলাকায় রাতভর অবাধে বাজি ফাটানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এর ফলে বৃদ্ধ, শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি এবং পোষ্য প্রাণীরা চরম সমস্যার সম্মুখীন হয়। মামলাকারী সাগুফতা সুলেমান আদালতে জানান, “কোরানে কোথাও বাজি ফাটানোর বিধান নেই।” অন্যান্য উৎসবে বাজি ফাটানোর ওপর কড়াকড়ি থাকলেও শবে বরাতে কেন ছাড় দেওয়া হবে, সেই প্রশ্ন তুলেই তিনি আদালতের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

পুলিশের ভূমিকা ও চিকিৎসকদের সতর্কতা: গত বছরও হাইকোর্ট একই নির্দেশ দিলেও তা কার্যকর করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে এবার কলকাতা পুলিশকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, বাজির বিষাক্ত ধোঁয়া এবং কানফাটানো শব্দ মানুষের স্নায়ু ও শ্বাসযন্ত্রের ক্ষতি করে। তাই বায়ুর মান বজায় রাখতে এবং জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে এবার পুলিশের তরফে বিশেষ নজরদারি ও তল্লাশি অভিযান চালানো হবে।