বাজেটে বড় ঘোষণা! সস্তা হচ্ছে ৩৬টি জীবনদায়ী ওষুধ, ডাক্তার প্রতাপ রেড্ডির চোখে ‘নতুন ভারত’

২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটে স্বাস্থ্য পরিষেবাকে সাধারণ মানুষের নাগালে আনতে একগুচ্ছ যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। এবার বাজেটে মধ্যবিত্তের পকেটে স্বস্তি দিতে ৩৬টি জীবনদায়ী ওষুধের ওপর থেকে আমদানি শুল্ক পুরোপুরি তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ক্যানসার ও বিরল রোগের চিকিৎসার খরচ এক ধাক্কায় অনেকটাই কমতে চলেছে। অ্যাপোলো হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. প্রতাপ সি রেড্ডি সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে একে ‘সুস্থ ভারতের চালিকাশক্তি’ বলে অভিহিত করেছেন।
ওষুধের দামে কী প্রভাব পড়বে? বাজেট অনুযায়ী, ৩৬টি অতি প্রয়োজনীয় এবং জীবনদায়ী ওষুধের ওপর কাস্টমস ডিউটি তুলে দেওয়ায় ওষুধের খুচরো দাম উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘমেয়াদী এবং ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালাচ্ছেন, তাদের জন্য এটি আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়াবে। ডা. রেড্ডির মতে, সুস্থ নাগরিকই ‘বিকশিত ভারত’-এর প্রধান সম্পদ।
বাজেটের প্রধান আকর্ষণসমূহ:
বায়োফার্মা শক্তি: লাইফ সায়েন্স ও ওষুধের গবেষণায় ভারতকে বিশ্বসেরা করতে ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দে শুরু হচ্ছে ‘বায়োফার্মা শক্তি’ প্রকল্প।
১০০০ ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সেন্টার: দেশে ১০০০টি নতুন ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সেন্টার তৈরি হবে। ফলে উন্নত চিকিৎসা ও নতুন ওষুধ তৈরির জন্য আর বিদেশের মুখাপেক্ষী হতে হবে না।
মেডিক্যাল শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ: দেশে ১০ হাজার নতুন মেডিক্যাল আসন বাড়ানো হচ্ছে এবং ১.৫ লক্ষ কেয়ারগিভার তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
মানসিক স্বাস্থ্য ও জেলা হাসপাতাল: রাঁচি ও তেজপুরে মানসিক স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নতির পাশাপাশি আসছে ‘নিমহ্যান্স-২’। এছাড়া প্রতিটি জেলা হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসার ক্ষমতা ৫০% বাড়ানো হবে।
মফস্বলের বাসিন্দাদের জন্য এবার জেলাস্তরেই মিলবে ট্রমার উন্নত পরিষেবা। এছাড়াও পাঁচটি নতুন মেডিক্যাল টুরিজম হাব তৈরি করা হবে যা অর্থনীতিতেও গতি আনবে। ডা. রেড্ডির দাবি, এই পরিকল্পনাগুলি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে ভারত খুব শীঘ্রই বিশ্বের ‘হেলথ হাব’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।