বিয়ের দু’মাসেই খতম ভালোবাসা! বরেলিতে স্বামীর গলায় মাফলার পেঁচিয়ে ‘আত্মহত্যা’র নাটক স্ত্রীর

দীর্ঘ নয় বছরের প্রেম। দুই পরিবারের সম্মতিতে গত ২৫ নভেম্বর ধুমধাম করে হয়েছিল বিয়ে। কিন্তু লাল বেনারসির রং ফিকে হতে না হতেই সেই প্রেমের মর্মান্তিক ও নৃশংস পরিণতি ঘটল। উত্তরপ্রদেশের বরেলিতে স্ত্রীর হাতেই খুন হতে হলো স্বামী জিতেন্দ্র কুমার যাদবকে (৩৩)। বিয়ের মাত্র দুই মাস কাটতে না কাটতেই এই বীভৎস হত্যাকাণ্ড ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।

খুন করে আত্মহত্যার নাটক: গত ২৬ জানুয়ারি বরেলির একটি ভাড়া বাড়ি থেকে জিতেন্দ্রর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। জিতেন্দ্রর স্ত্রী জ্যোতি এবং তাঁর পরিবার প্রথম থেকেই দাবি করে আসছিল যে, জিতেন্দ্র জানলার গ্রিলের সঙ্গে মাফলার পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু পুলিশের সন্দেহ দানা বাঁধে যখন দেখা যায় দেহের অবস্থান ও পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ আত্মহত্যার তত্ত্বের সঙ্গে মিলছে না। শেষ পর্যন্ত ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসতেই পর্দাফাঁস হয়। রিপোর্টে স্পষ্ট জানানো হয়, জিতেন্দ্রর মৃত্যু হয়েছে শ্বাসরোধের কারণে, এবং এটি কোনও আত্মহত্যা নয় বরং হত্যাকাণ্ড।

হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বিবরণ: পুলিশি জেরার মুখে ভেঙে পড়ে অপরাধ কবুল করেন স্ত্রী জ্যোতি। জানা গিয়েছে, খুনের সময় জ্যোতি একা ছিলেন না। জিতেন্দ্র যখন ঘুমাচ্ছিলেন বা অসতর্ক ছিলেন, তখন জ্যোতির বাবা, মা এবং ভাই জিতেন্দ্রকে জাপ্টে ধরে নড়াচড়া করতে বাধা দেন। সেই সুযোগেই জ্যোতি নিজের হাতে স্বামীর গলা টিপে তাঁকে শ্বাসরোধ করে খুন করেন। এরপর ঘটনাটিকে ধামাচাপা দিতে মৃতদেহটি জানলার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়।

কেন এই নৃশংসতা? তদন্তে উঠে এসেছে এক সামান্য আর্থিক বিবাদের কথা। পুলিশ সূত্রে খবর, জ্যোতি জমানো টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন জিতেন্দ্র। সেই টাকা তিনি জুয়ায় হেরে যান। এই নিয়েই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চরম অশান্তি শুরু হয়। রাগের বশেই বাবার বাড়ির লোকেদের সঙ্গে মিলে স্বামীকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন জ্যোতি।

গ্রেফতার ৩, পলাতক ১: এই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই স্ত্রী জ্যোতি, তাঁর বাবা এবং মাকে গ্রেফতার করেছে। তবে জ্যোতির ভাই অর্থাৎ জিতেন্দ্রর শ্যালক এখনও পলাতক। পুলিশ তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। নয় বছরের দীর্ঘ সম্পর্ক এবং নতুন জীবনের স্বপ্ন এভাবে রক্তক্ষয়ী খুনের ঘটনায় শেষ হয়ে যাওয়ায় স্তম্ভিত বরেলির বাসিন্দারা।