ভোরবেলায় জোরালো কম্পন! ৪.৬ তীব্রতায় কেঁপে উঠল কাশ্মীর, আতঙ্কে ঘর ছাড়লেন বাসিন্দারা

সপ্তাহের শুরুতেই প্রকৃতির তাণ্ডব ভূস্বর্গে। সোমবার ২ ফেব্রুয়ারি, যখন গোটা উপত্যকা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই কেঁপে উঠল মাটি। ঘড়ির কাঁটায় তখন ভোর ৫টা ৩৫ মিনিট। উত্তর কাশ্মীরের বারামুলা সহ বিস্তীর্ণ এলাকা মাঝারি মাত্রার এই ভূমিকম্পে তীব্রভাবে কেঁপে ওঠে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (NCS)-এর প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.৬।
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল বারামুলা এলাকার মাটির ১০ কিলোমিটার গভীরে। কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হওয়া এই কম্পন সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলিতেও বেশ অনুভূত হয়েছে। ঘুমন্ত অবস্থায় হঠাৎ খাট-আলমারি দুলতে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সাধারণ মানুষ। হাড়কাঁপানো কনকনে ঠান্ডাকে উপেক্ষা করেই শয়ে শয়ে মানুষ ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। ভারত-পাকিস্তান সীমান্তবর্তী কিছু এলাকায় বেশ কিছু ঘরবাড়িতে ফাটল ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গিয়েছে।
প্রশাসনের তৎপরতা ও সতর্কতা: বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (SDMA) এক আধিকারিক জানিয়েছেন, কম্পন মাঝারি মাত্রার হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন ইতিমধ্যেই হাই অ্যালার্ট জারি করেছে। জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে যে, পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে কি না, তাও পরীক্ষা করা হচ্ছে। কোনও ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার জন্য আবেদন করেছে প্রশাসন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত এবং পরবর্তী আফটার শকের আশঙ্কায় উদ্ধারকারী দলগুলিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। আপাতত নতুন কোনও বিপদের সম্ভাবনা না থাকলেও নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।