গায়ে ফোস্কা পড়বে! ২০২৬-এ ফিরছে ‘এল নিনো’, অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে চুরমার করবে গরম?

শীত বিদায় নিতে না নিতেই এবার কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলছে আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে এক ভয়ঙ্কর তথ্য— বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর প্রভাবে ২০২৬ সালে ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ায় চরম তাপপ্রবাহ (Extreme Heat) দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে এ বছর ‘এল নিনো’ (El Nino) সক্রিয় হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকায় গ্রীষ্মকাল তার সাম্প্রতিক অতীতের সমস্ত উষ্ণতার রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া ইতিমধ্যই সেই ইঙ্গিত দিতে শুরু করেছে। জানুয়ারির শেষ থেকেই শীত কার্যত উধাও। আবহাওয়াবিদদের মতে, ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই পারদ ৩২ থেকে ৩৪ ডিগ্রির ঘরে পৌঁছে যেতে পারে। মার্চ মাসে তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি ছুঁয়ে ফেলাও অস্বাভাবিক নয়। এর আগে এপ্রিল মাসে যে তাপপ্রবাহের সম্মুখীন হতে হতো রাজ্যবাসীকে, এবার তা মার্চের শেষ থেকেই শুরু হতে পারে। গবেষণায় বলা হয়েছে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা যদি আর মাত্র ২ ডিগ্রি বৃদ্ধি পায়, তবে ২০৫০ সালের মধ্যে ৩৭০ কোটি মানুষ সরাসরি এই মারণ গরমের কবলে পড়বেন।

শুধুমাত্র ভারত বা বাংলাদেশ নয়, অক্সফোর্ডের রিপোর্ট বলছে নাইজেরিয়া, ব্রাজিল এমনকি ব্রিটেন ও সুইডেনের মতো শীতল দেশগুলিতেও উষ্ণ দিনের সংখ্যা ২০০ থেকে ২৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছবে যে, আয়ারল্যান্ড বা সুইজারল্যান্ডের মতো দেশেও আগামী দিনে প্রতিটি বাড়িতে এয়ার কন্ডিশনার বা এসি-র প্রয়োজন পড়বে। বন নিধন ও লাগামছাড়া দূষণের ফলে প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ আগামী কয়েক দশকে লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণহানি ঘটাতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন গবেষকরা।