বাস্তারের ‘ঘোটুল’-এ লোকজ উৎসবে মাতলেন মুখ্যমন্ত্রী! জিভে জল আনা আদিবাসী খাবারের মেনুতে কী কী ছিল?

আদিবাসী সংস্কৃতিই বাস্তারের প্রাণ; গড়বেঙ্গল ঘোটুলে লোকজ মেজাজে মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণুদেব সায়

নারায়ণপুর: ছত্তিশগড়ের বাস্তার অঞ্চলের শতাব্দী প্রাচীন আদিবাসী ঐতিহ্য ‘ঘোটুল’ (Ghotul)-কে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে বড় পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণুদেব সায়। নারায়ণপুর সফরের দ্বিতীয় দিনে তিনি গড়বেঙ্গলের নবনির্মিত আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব ঘোটুল পরিদর্শন করেন। প্রথাগত বাদ্যযন্ত্রের সুর আর গ্রামবাসীদের উষ্ণ অভ্যর্থনায় মুখ্যমন্ত্রী নিজেই মিশে গেলেন লোকজ উৎসবে।

শিক্ষার কেন্দ্র থেকে পর্যটন আকর্ষণ

মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঘোটুল কেবল একটি ঘর নয়, এটি আদিবাসী সমাজের শিক্ষা ও সংস্কৃতির পবিত্র পাঠশালা। চেন্দ্রু পার্কের পাশে তৈরি এই আধুনিক ঘোটুলটি একদিকে যেমন তরুণ প্রজন্মকে নিজেদের শিকড় চেনাবে, অন্যদিকে পর্যটকদের কাছে বাস্তারের জীবনধারা তুলে ধরবে। তিনি ঘোটুলের যুবক-যুবতীদের কক্ষ এবং প্রাচীন বাদ্যযন্ত্রের সংগ্রহশালা ঘুরে দেখেন।

থালিতে বাস্তারের স্বাদ: কোদো-ভাত থেকে রাগি জিলাপি

পরিদর্শন শেষে গ্রামবাসীদের অনুরোধে মুখ্যমন্ত্রী বসে পড়েন পাত পেড়ে। বাস্তারের ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ নিয়ে তিনি স্থানীয় খাদ্য সংস্কৃতিকে সম্মান জানান। তাঁর মেনুতে ছিল:

  • মূল পদ: গাটো-ভাত, কোদো-ভাত, বিউলির ডাল ও তেঁতুল আমাত।

  • শাক-সবজি: জিরা ভাজি, চটি ভাজি, কান্দা ভাজি এবং টমেটো চাটনি।

  • মিষ্টি ও পানীয়: মড়িয়া পেজ, রাগি লাড্ডু, রাগি কেক এবং মুচমুচে রাগি জিলাপি।

গুণীজনদের সান্নিধ্যে মুখ্যমন্ত্রী

এই সফরকে কেবল সরকারি অনুষ্ঠানের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না রেখে মুখ্যমন্ত্রী একে একটি পারিবারিক মিলনমেলায় পরিণত করেন। তিনি বাস্তারের গর্ব— পদ্মশ্রী বৈদ্যরাজ হেমচাঁদ মাঝি, পদ্মশ্রী পাণ্ডিরাম মাণ্ডবী এবং বিখ্যাত লোকশিল্পী বুটলু রামের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের আশীর্বাদ নেন। বিশেষ করে তিনি কথা বলেন বিশ্ববিখ্যাত ‘টাইগার বয়’ চেন্দ্রুর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে।

ইকো-ফ্রেন্ডলি স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন

সম্পূর্ণ কাঠ, মাটি এবং বাঁশ দিয়ে তৈরি এই ঘোটুলটি পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের এক শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। পদ্মশ্রী পাণ্ডিরাম মাণ্ডবী নিজের হাতে ঘোটুলের স্তম্ভগুলোতে যে সূক্ষ্ম নকশা খোদাই করেছেন, তার ভূয়সী প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বনমন্ত্রী কেদার কাশ্যপ এবং রাজস্বমন্ত্রী টঙ্কারাম ভার্মাও এই আনন্দময় সফরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গী ছিলেন।