বিটিং রিট্রিট ২০২৬: কেন প্রজাতন্ত্র দিবসের পর পালিত হয় এই বিশেষ প্রথা? জানুন এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব

আজ ২৯শে জানুয়ারি, ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনের চার দিনের বর্ণাঢ্য আয়োজনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটতে চলেছে। দিল্লির বিজয় চকে সন্ধ্যা ৬:১৫ মিনিটে শুরু হবে ঐতিহ্যবাহী ‘বিটিং রিট্রিট’ অনুষ্ঠান। সূর্যাস্তের মনোরম আবহে রাষ্ট্রপতি ভবন, উত্তর ও দক্ষিণ ব্লক যখন আলোকসজ্জায় সেজে উঠবে, তখন সামরিক ব্যান্ডের সুর দেশাত্মবোধের এক অন্য মাত্রা তৈরি করবে।

বিটিং রিট্রিট-এর ইতিহাস ও গুরুত্ব: বিটিং রিট্রিট কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি শত বছরের প্রাচীন এক সামরিক ঐতিহ্য। প্রাচীনকালে যখন যুদ্ধ চলত, তখন সূর্যাস্তের পর যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার জন্য ড্রাম এবং তূরী বাজানো হতো। এই সংকেত পেয়ে সেনারা রণক্ষেত্র ছেড়ে নিজেদের শিবিরে ফিরে যেতেন। ১৯৫০-এর দশকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর মেজর রবার্টস ভারতে এই প্রথার সূচনা করেন। বর্তমানে এটি প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনের সমাপ্তি এবং শান্তির প্রতীক হিসেবে পালিত হয়।

২০২৬ সালের বিশেষ আকর্ষণ: এবারের বিটিং রিট্রিট বেশ কিছু কারণে অনন্য। এ বছর জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০তম বর্ষপূর্তি উদযাপিত হচ্ছে, তাই পুরো অনুষ্ঠানের থিম সাজানো হয়েছে একে কেন্দ্র করেই। দর্শকদের বসার জায়গাগুলোর নামকরণ করা হয়েছে ভারতীয় ধ্রুপদী বাদ্যযন্ত্র যেমন— বাঁশি, মৃদঙ্গম, সেতার এবং তবলার নামে।

সুরের ছন্দে ত্রিভুবন: ভারতীয় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর ব্যান্ডগুলো আজ বিজয় চকে ‘কদম কদম বড়ায়ে যা’, ‘সারে জাহান সে আচ্ছা’ এবং ‘বিজয় ভারত’-এর মতো ধুন পরিবেশন করবে। শেষে যখন রিট্রিট বিউগল বাজবে এবং জাতীয় পতাকা নামানো হবে, তখন এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হবে। রাষ্ট্রপতি প্রধান অতিথি হিসেবে ব্যান্ড প্রত্যাহারের অনুমতি দিলেই পর্দা পড়বে ২০২৬-এর প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনের।