ভিভিআইপি-দের অবতরণ অথচ দায়িত্বে শিক্ষানবিশ ছাত্ররা! বারামতী বিমানবন্দরের কঙ্কালসার চেহারা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের মর্মান্তিক মৃত্যু নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা দেশ। কিন্তু এই দুর্ঘটনার পর তদন্তের আলোয় উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য—যে বিমানবন্দরে ভিভিআইপি-রা নিয়মিত যাতায়াত করেন, সেই বারামতী বিমানবন্দরটি আসলে একটি ‘অনিয়ন্ত্রিত’ (Uncontrolled) বিমানবন্দর। ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (DGCA)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই বিমানবন্দরের পরিকাঠামো এতটাই দুর্বল যে এখানকার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (ATC) অনেক সময় শিক্ষানবিশ পাইলট বা ব্যক্তিগত ফ্লাইং স্কুলের প্রশিক্ষকরা পরিচালনা করেন।
কার দায়িত্বে এই বিমানবন্দর? বারামতী বিমানবন্দরটি মহারাষ্ট্র শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন (MIDC) দ্বারা পরিচালিত এবং এটি একটি ‘লাইসেন্সবিহীন’ অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর হিসেবে তালিকাভুক্ত। ২০০৯ সালে এটি রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচারকে লিজ দেওয়া হলেও, আশানুরূপ উন্নয়ন না হওয়ায় ২০২৫ সালে MIDC পুনরায় এর দায়িত্ব নেয়। ৭,৭১০ ফুট লম্বা রানওয়ে থাকলেও এখানে আইএলএস (Instrument Landing System)-এর মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির অভাব রয়েছে।
শিক্ষানবিশদের হাতে এটিসি-র রাশ: সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, বারামতী বিমানবন্দরে ভারতীয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের (AAI) কোনো স্থায়ী এটিসি কভারেজ নেই। এখানে অবস্থিত দুটি বেসরকারি ফ্লাইং স্কুলের কর্মীরাই এটিসি পরিচালনা করেন। দুর্ঘটনার দিন কার্ভার এভিয়েশনের একজন প্রশিক্ষক দায়িত্বে ছিলেন। ক্যাটাগরি ‘A’ ভুক্ত এই বিমানবন্দরে রাডার বা সঠিক আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্যের অভাব পাইলটদের জন্য মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়ায়। দুর্ঘটনার সময় দৃশ্যমানতা ছিল মাত্র ৩ কিলোমিটার, যেখানে নিরাপদ অবতরণের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৫ কিলোমিটার।
আইএএফ-এর হস্তক্ষেপ ও বিশেষজ্ঞদের মত: দুর্ঘটনার পর টনক নড়েছে প্রশাসনের। পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারতীয় বিমান বাহিনী (IAF) বর্তমানে সেখানে একটি বিশেষ দল মোতায়েন করেছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, লিয়ারজেট ৪৫-এর মতো বিমানের জন্য রানওয়ে পর্যাপ্ত হলেও, সঠিক নির্দেশনা বা যন্ত্রপাতির অভাবে কুয়াশার মধ্যে দিক নির্ণয় করতে ভুল করেন পাইলট। রানওয়েতে যদি আধুনিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা থাকত, তবে হয়তো এই প্রাণহানি এড়ানো যেত। বারামতীর ‘দাদা’র মৃত্যু ভারতের অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোর পরিকাঠামোগত দৈন্যতাকে আবারও উলঙ্গ করে দিল।