ডিএ নেই তো কী, ছুটি আছে! ওড়িশাকে বহু পিছনে ফেলে ‘হলিডে কিং’ পশ্চিমবঙ্গ, তালিকায় শীর্ষে মমতা সরকার

একদিকে মহার্ঘ্য ভাতা বা ডিএ (DA) নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে কর্মীদের সংঘাত তুঙ্গে, ঠিক সেই আবহেই এক চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট সামনে এল। ছুটির নিরিখে দেশের সমস্ত রাজ্যকে টেক্কা দিয়ে ফের একবার শীর্ষস্থান দখল করল পশ্চিমবঙ্গ। পরিসংখ্যন বলছে, পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীরা বছরে যে পরিমাণ ছুটি ভোগ করেন, তা ভারতের অন্য কোনও রাজ্যে কল্পনাতীত।
ছুটির খতিয়ান ও তুলনামূলক চিত্র: রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীরা বছরে মোট ৫৩ দিন নির্ধারিত সরকারি ছুটি পান। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ওড়িশা অনেক পিছনে, সেখানে ছুটির সংখ্যা মাত্র ৩৪ দিন। ২০১০ সালের তুলনায় রাজ্যে ছুটির সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১৮ দিন। এই ৫৩ দিনের সঙ্গে ৫২টি শনিবার ও ৫২টি রবিবার যোগ করলে দেখা যাচ্ছে, ৩৬৫ দিনের বছরে বাংলার সরকারি কর্মীরা মোট ১৫৭ দিন ছুটিতে কাটান। অর্থাৎ বছরের প্রায় ৪৩ শতাংশ সময় অফিস বন্ধ থাকে।
কেন বাড়ল ছুটির বহর? বিগত দেড় দশকে তালিকায় যুক্ত হয়েছে একাধিক নতুন ছুটি। সরস্বতী পুজোর আগের দিন, শব-ই-বরাত, দোলের পরের দিন থেকে শুরু করে দুর্গাপুজোর লম্বা ছুটি—সব মিলিয়ে উৎসবের মরসুমে এখন চতুর্থী থেকেই ছুটি পান কর্মীরা। তৃণমূল সমর্থিত কর্মচারী ফেডারেশনের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী কর্মচারীপ্রেমী বলেই কাজের একঘেয়েমি কাটাতে এই সুযোগ দিয়েছেন।
বিতর্ক ও ডিএ ইস্যু: তবে এই ‘ছুটি সংস্কৃতি’ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিরোধী কর্মচারী সংগঠনগুলো। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, “আমরা ছুটি নয়, রুটি চাই।” একদিকে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা যেখানে ৫৮ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন, সেখানে বাংলার কর্মীরা পাচ্ছেন মাত্র ১৮ শতাংশ। বকেয়া ডিএ-র মামলা লড়ছে সুপ্রিম কোর্টে। বিরোধীদের অভিযোগ, ডিএ না দিয়ে অফিস বন্ধ রেখে পরিকাঠামোগত খরচ বাঁচাতেই সরকার এই কৌশলী পথে হাঁটছে।