মহারাষ্ট্রে বড় ধামাকা! বিজেপির অস্বস্তি বাড়িয়ে হাত মেলাল শিন্ডে-শিবসেনা ও কংগ্রেস

মহারাষ্ট্রের রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় রদবদল। কেন্দ্রে এবং রাজ্যে বিজেপি ও একনাথ শিন্ডের শিবসেনা জোটবদ্ধ থাকলেও, মীরা ভায়ান্দর পৌর কর্পোরেশনে (MBMC) ধরা পড়ল উল্টো ছবি। বিজেপির একতরফা আধিপত্য রুখতে এবার প্রকাশ্যেই হাত মেলাল শিন্ডে গোষ্ঠী ও কংগ্রেস। দুই দলের এই অপ্রত্যাশিত জোট ‘মীরা ভায়ান্দর শহর বিকাশ আঘাড়ি’ নামে একটি যৌথ বিরোধী মঞ্চ গঠন করেছে, যা নিয়ে মায়ানগরীর রাজনীতিতে তুঙ্গে জল্পনা।

৯৫টি আসনের মধ্যে ৭৮টি জিতে বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও, পৌর সভার অন্দরে বিরোধী কণ্ঠস্বর জোরালো করতে এই জোট গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে এই ফ্রন্টে কংগ্রেসের ১৩ জন, শিন্ডে শিবসেনার ৩ জন এবং একজন স্বতন্ত্র কাউন্সিলর রয়েছেন। মোট ১৭ জনের এই জোটের নেতা নির্বাচিত হয়েছেন জয় ঠাকুর। শিন্ডে গোষ্ঠীর নেতা প্রতাপ সারনায়েক জানিয়েছেন, এটি কোনো আদর্শগত জোট নয়, বরং পুরসভার কাজে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতার অপব্যবহার রুখতে এই পদক্ষেপ।

অন্যদিকে, এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিজেপি। স্থানীয় বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মেহতা তোপ দেগে বলেছেন, “কংগ্রেসের হাত ধরে শিন্ডে গোষ্ঠী বালাসাহেব ঠাকরের আদর্শ বিসর্জন দিয়েছে।” বিধানসভায় কংগ্রেসের বিরোধিতা আর পুরসভায় তাদের আলিঙ্গন—শিবসেনার এই ‘দ্বিচারিতা’ নিয়ে সরব গেরুয়া শিবির। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬-এর এই সমীকরণ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতার লড়াইয়ে বিজেপিকে চাপে রাখতে শিন্ডে গোষ্ঠী যে কোনো পথে হাঁটতে প্রস্তুত। এখন দেখার, এই নয়া জোট মীরা ভায়ান্দরের মেয়র নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলে।