বাস কন্ডাক্টর থেকে পদ্মশ্রী! ১০ লাখ বইয়ের পাহাড় গড়ে ইতিহাস গড়লেন এই ব্যক্তি

অদম্য জেদ আর বইয়ের প্রতি নিখাদ ভালোবাসা মানুষকে ঠিক কতটা উঁচুতে নিয়ে যেতে পারে, তার জীবন্ত উদাহরণ হয়ে উঠলেন কর্নাটকের মাণ্ড্য জেলার অংকে গৌড়া। পেশায় একসময় ছিলেন সাধারণ বাস কন্ডাক্টর, কিন্তু আজ তিনি ভারত সরকারের চতুর্থ সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ‘পদ্মশ্রী’তে ভূষিত। সাহিত্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রে তাঁর এই অসামান্য অবদানের নেপথ্যে রয়েছে কয়েক দশকের কঠোর পরিশ্রম এবং একটি বিশেষ স্বপ্ন— ‘পুস্তক মানে’ বা ‘বইয়ের ঘর’।
মাণ্ড্য জেলার এক সাধারণ পরিবারে বড় হওয়া অংকে গৌড়া যখন বাস কন্ডাক্টরের কাজে যোগ দেন, তখন থেকেই তাঁর নেশা ছিল বই পড়া। কিন্তু সেই নেশা যে একদিন ১০ লক্ষ বইয়ের এক বিশাল লাইব্রেরিতে রূপ নেবে, তা হয়তো তিনি নিজেও ভাবেননি। নিজের আয়ের সিংহভাগ ব্যয় করতেন বই কেনায়। শুধু কন্নড় নয়, তাঁর সংগ্রহে রয়েছে ইংরেজি সহ ২২টি ভারতীয় ও বিদেশি ভাষার বই। দুর্লভ পাণ্ডুলিপি থেকে শুরু করে আধুনিক সাহিত্য— কী নেই সেখানে!
নিছক শখের বশে বই জমানো নয়, অংকে গৌড়া চেয়েছিলেন এই জ্ঞান সকলের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে। সেই লক্ষ্যেই তিনি গড়ে তোলেন তাঁর স্বপ্নের লাইব্রেরি। ধীরে ধীরে তাঁর সংগ্রহ এতই বেড়ে যায় যে নিজের ঘর ও জমি পর্যন্ত উৎসর্গ করে দেন এই জ্ঞানভাণ্ডারের জন্য। বর্তমানে গবেষক থেকে শুরু করে পড়ুয়া— যে কেউ বিনা মূল্যে এই লাইব্রেরি ব্যবহার করতে পারেন। অংকে গৌড়া প্রমাণ করেছেন যে, বড় পরিবর্তন আনার জন্য বড় ডিগ্রি নয়, বরং বড় সংকল্পের প্রয়োজন হয়। তাঁর এই সফর আজ গোটা দেশের কাছে অনুপ্রেরণা।