হস্টেলের দরজা অবারিত, শাড়ি-পাঞ্জাবিতে রঙিন ক্যাম্পাস; বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে এ এক অনন্য ‘ভ্যালেন্টাইন্স ডে’

বসন্তের বাতাস বইতে শুরু করলেই বাঙালির মনে প্রেমের গুনগুনানি শুরু হয়। তবে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের কাছে সরস্বতী পুজো মানে শুধু বাগদেবীর আরাধনা নয়, বরং এক অনাবিল স্বাধীনতার উৎসব। যাকে পড়ুয়ারা ভালোবেসে ডাকেন ‘অলীকিত ভ্যালেন্টাইন্স ডে’। বছরের এই বিশেষ দু’টি দিন হস্টেলের কড়া নিয়ম উধাও হয়ে যায়, আর তত্ত্ব আদান-প্রদানের আড়ালে চলে মনের আদান-প্রদান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো রীতি মেনে সরস্বতী পুজোর পরের দিন ছাত্র ও ছাত্রীদের হস্টেলগুলির মধ্যে চলে ‘তত্ত্ব’ বিনিময়। গোলাপবাগ ক্যাম্পাসের আইনস্টাইন, অরবিন্দ বা রবীন্দ্র হস্টেলের ছেলেরা তত্ত্ব নিয়ে হাজির হন তারাবাগ ক্যাম্পাসের মীরাবাঈ বা নিবেদিতা হস্টেলে। একইভাবে ছাত্রীরাও ডালি সাজিয়ে পৌঁছে যান ছেলেদের আস্তানায়। বিয়ের বাড়ির তত্ত্বের আদলে ফল, ফুল, মিষ্টি, চকোলেট আর প্রসাধনী দিয়ে সাজানো হয় ডালি। মাস খানেক আগে থেকেই চলে এই প্রস্তুতির তোড়জোড়।
এই প্রথার সবথেকে বড় আকর্ষণ হলো হস্টেলে অবাধ প্রবেশাধিকার। সারাবছর তারাবাগের মেয়েদের হস্টেলে ছেলেদের প্রবেশাধিকার না থাকলেও, পুজোর এই দু’দিন গেট থাকে অবারিতদ্বার। জিন্স-টপ ছেড়ে বাসন্তী শাড়ি আর খোঁপায় ফুলের সাজে ছাত্রীরা যখন তত্ত্ব হাতে বের হন, তখন পাল্লা দেন ছেলেরাও। লাল বা বাসন্তী পাঞ্জাবিতে সুসজ্জিত ছাত্ররা ব্যস্ত থাকেন মেয়েদের আপ্যায়নে। আড্ডা, খাওয়া-দাওয়ার মাঝে কেউ কেউ তত্ত্বের ফাঁকেই পছন্দের মানুষকে পাঠিয়ে দেন প্রেমের গোপন চিঠি। এমনকি কখনও কখনও ক্যাম্পাসে মজা করে মালাবদল করার দৃশ্যও চোখে পড়ে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী আলিশা তামান্না মণ্ডল ও উম্মে সালমার কথায়, “এই দু’দিনের জন্য আমরা সারা বছর চাতক পাখির মতো চেয়ে থাকি। হস্টেল যাতায়াতে কোনও বিধিনিষেধ না থাকায় আমরা জমিয়ে গল্পগুজব করি।” ছাত্র সৌম্যদীপ মণ্ডলের মতে, এটি তাঁদের কাছে কেবল প্রথা নয়, বরং বন্ধুত্ব ও ভালোবাসার বন্ধনকে আরও মজবুত করার এক মাধ্যম। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের এই তত্ত্ব বিনিময় প্রথা আজও রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে এক অনন্য স্থান অধিকার করে আছে।