শিন্ডের গড়ে বিজেপির সার্জিক্যাল স্ট্রাইক! থানে মেয়র পদ নিয়ে মহাযুতিতে তুলকালাম

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এখন ‘পাওয়ার গেম’-এর কেন্দ্রবিন্দু থানে পৌর কর্পোরেশন (TMC)। স্থানীয় নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই মহাযুতি জোটের দুই প্রধান শরিক—বিজেপি এবং একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনার মধ্যে ফাটল চওড়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের খাসতালুক হিসেবে পরিচিত থানেতে এবার মেয়র পদের দাবি জানিয়ে কার্যত যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দিল বিজেপি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শিন্ডে যেভাবে অতীতে মহাবিকাশ আঘাডিতে থাকাকালীন নিজের শক্তি বাড়িয়েছিলেন, বিজেপি এখন ঠিক সেই পথেই শিন্ডের দুর্গে আধিপত্য বিস্তারের কৌশল নিয়েছে।

সংখ্যার লড়াই ও বিজেপির যুক্তি: থানে পৌর কর্পোরেশনের মোট ১৪২টি আসনের মধ্যে ৭১টি আসন দখল করে একক বৃহত্তম দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে শিন্ডে সেনা। তবে বিজেপিও খুব একটা পিছিয়ে নেই। রাজ্য ও কেন্দ্রে নিজেদের বড় দাদার ভূমিকা তুলে ধরে বিজেপি নেতাদের দাবি, থানের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরের প্রশাসনে এবার তাদেরই নেতৃত্ব দেওয়া উচিত। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের সাফ কথা, মহারাষ্ট্রের বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে থানে মেয়র পদে তাদের দাবি অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং যুক্তিসঙ্গত।

রিসর্ট রাজনীতি ও শিন্ডের সতর্কতা: থানে একনাথ শিন্ডের রাজনৈতিক অস্তিত্বের লড়াই। নিজের গড়ে বিজেপির এই আগ্রাসন কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না মুখ্যমন্ত্রী। ঘোড়া কেনাবেচা বা ক্রস-ভোটিং রুখতে ইতিমধ্যে ‘হোটেল পলিটিক্স’ শুরু করে দিয়েছে শিবসেনা। সূত্রের খবর, শিবসেনার কাউন্সিলরদের মুম্বাইয়ের একটি বিলাসবহুল হোটেলে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধীরা (ইউবিটি ও কংগ্রেস) এই সুযোগে মহাযুতির অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে।

মীমাংসার পথ কী? বিবাদ মেটাতে ‘আড়াই বছর’ ফর্মুলা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অর্থাৎ, দুই দলই আড়াই বছর করে মেয়র পদ নিজেদের কাছে রাখবে। তবে জটিলতা তৈরি হয়েছে প্রথম দফার মেয়াদ নিয়ে। দুই পক্ষই প্রথম আড়াই বছর মেয়র পদ দাবি করছে। আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে সংরক্ষণ প্রক্রিয়া শেষ হলেই স্পষ্ট হবে যে, থানের মসনদে শেষ পর্যন্ত কে বসবেন।