গণতন্ত্র নাকি কোটিপতিদের ক্লাব? সাধারণ মানুষের চেয়ে ৪০০০ গুণ বেশি রাজনৈতিক ক্ষমতা ধনীদের হাতে, অক্সফাম

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে যখন বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (WEF) ৫৬তম বার্ষিক সভায় বিশ্বের তাবড় নেতারা মিলিত হয়েছেন, ঠিক তখনই অক্সফাম (Oxfam) তাদের এক বিস্ফোরক রিপোর্টে বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান ধনী-দরিদ্রের ব্যবধানের পর্দা ফাঁস করল। ‘ধনীদের শাসন প্রতিরোধ’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বর্তমানে রাজনীতি এবং গণতন্ত্র সাধারণ মানুষের হাত থেকে চ্যুত হয়ে বিলিয়নেয়ারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে।

রেকর্ড সম্পদ বৃদ্ধি ও ক্ষুধা অক্সফামের মতে, ২০২৫ সালে বিলিয়নেয়ারদের মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়াবে ১৮.৩ ট্রিলিয়ন ডলার, যা ভারতের মোট জিডিপির কয়েক গুণ বেশি। যেখানে বিশ্বের প্রতি চারজনের মধ্যে একজন আজ খাবারের অভাবে ভুগছেন, সেখানে ২০২০ সাল থেকে ধনীদের সম্পদ বেড়েছে ৮১ শতাংশ। বর্তমানে বিশ্বের বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা ৩,০০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে এবং এলন মাস্ক বিশ্বের প্রথম ৫০০ বিলিয়ন ডলারের মালিক হয়ে ইতিহাস গড়েছেন।

রাজনীতি ও মিডিয়ার দখলদারি রিপোর্টটি একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে— একজন সাধারণ মানুষের তুলনায় একজন বিলিয়নেয়ারের রাজনৈতিক ক্ষমতায় আসীন হওয়ার সম্ভাবনা ৪,০০০ গুণ বেশি! অক্সফাম জানিয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো নেতারা ধনীদের স্বার্থে কর ছাড় এবং এআই (AI) সংস্থাগুলিকে অন্যায্য সুবিধা দিচ্ছেন। শুধু রাজনীতি নয়, মিডিয়া জগতেও থাবা বসিয়েছেন কোটিপতিরা। জেফ বেজোসের হাতে ওয়াশিংটন পোস্ট থেকে শুরু করে এলন মাস্কের হাতে টুইটার (X)— বিশ্বের অর্ধেকের বেশি প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এখন মুষ্টিমেয় কিছু ধনকুবেরের ব্যক্তিগত সম্পত্তি।

বিপন্ন গণতন্ত্র অমিতাভ বেহারের নেতৃত্বে অক্সফাম সতর্ক করেছে যে, উচ্চ বৈষম্যের দেশগুলিতে গণতন্ত্র দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা ৭ গুণ বেশি। মুদ্রাস্ফীতি ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে আমজনতা বিক্ষোভ দেখালে ৬৮টি দেশে তা দমনের জন্য হিংসার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। অক্সফাম বিশ্বের সরকারগুলিকে অতি-ধনীদের ওপর উচ্চহারে কর আরোপ এবং রাজনীতি থেকে টাকার দাপট কমানোর আবেদন জানিয়েছে।