ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করলেই ২৫% শুল্ক! ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিতে কি বিপাকে পড়বে ভারত? জানুন আসল সত্যি

ক্ষমতায় ফিরেই হুঙ্কার দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘোষণা— ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করলেই গুনতে হবে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক (ট্যারিফ)। ট্রাম্পের এই কড়া পদক্ষেপে ভারত, চীন এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর মতো দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল। কিন্তু ভারতের রফতানিকারক সংস্থা ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনস (FIEO) যা জানাল, তাতে কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে নয়াদিল্লি।
কেন ভারতের ওপর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম?
FIEO-এর ডিরেক্টর জেনারেল অজয় সহায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপে ভারতের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা প্রায় নেই বললেই চলে। এর প্রধান কারণগুলি হলো:
-
মানবিক লেনদেন: ভারত ও ইরানের মধ্যে বাণিজ্য মূলত খাদ্য ও ওষুধপত্রের মতো মানবিক পণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা (OFAC) মেনে ভারতের ব্যাঙ্ক ও সংস্থাগুলি কঠোরভাবে নিয়ম পালন করে।
-
নিষেধাজ্ঞার বাইরে: আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী খাদ্যশস্য, ওষুধ ও পশুখাদ্য মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকে। ভারত মূলত চাল, চা, চিনি এবং জীবনদায়ী ওষুধই তেহরানে পাঠায়।
-
নিয়ম মেনে বাণিজ্য: ভারতের কোম্পানিগুলি মার্কিন নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই লেনদেন চালাচ্ছে, ফলে নতুন শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রটি ভারতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
একনজরে ভারত-ইরান বাণিজ্য (২০২৪-২৫):
-
মোট বাণিজ্য: ১.৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
-
রফতানি: ১.২৪ বিলিয়ন ডলার (প্রধানত কৃষি ও ওষুধ)।
-
আমদানি: ৪৪১.৮৩ মিলিয়ন ডলার (ড্রাই ফ্রুটস ও রাসায়নিক)।
চাবাহার বন্দর ও কূটনৈতিক সমীকরণ
ভারতের জন্য ইরান শুধুমাত্র একটি বাণিজ্যিক সহযোগী নয়, বরং কৌশলগতভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের দক্ষিণ উপকূলে চাবাহার বন্দর ভারত ও ইরান যৌথভাবে তৈরি করছে, যা মধ্য এশিয়ায় ভারতের প্রবেশের প্রধান পথ।
যদিও আমেরিকার নতুন শুল্ক নীতি নিয়ে রফতানিকারকদের মধ্যে প্রাথমিক উদ্বেগ ছিল, তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে ভারত যে ধরনের পণ্য আদান-প্রদান করে, তা ট্রাম্পের কড়া নীতির সরাসরি লক্ষ্যবস্তু হবে না। তবে আমেরিকার ৫৪ শতাংশ উচ্চ শুল্কের প্রভাবে ভারতীয় রফতানিকারকরা ইতিপূর্বেই কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন, যার ওপর নজর রাখছে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রক।