ট্রাম্পের নজরে গ্রিনল্যান্ড! মাথা পিছু কোটি কোটি টাকা দেওয়ার টোপ, না মানলে সামরিক অভিযানের হুমকি?

ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে প্রত্যাবর্তন গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে এক নতুন ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। জানা গেছে, ওয়াশিংটনে এই মুহূর্তে গ্রিনল্যান্ডকে মার্কিন নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে আলোচনা চলছে। ট্রাম্প প্রশাসন এই দ্বীপটি দখলের জন্য বিভিন্ন কৌশল বিবেচনা করছে। যদি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তবে প্রায় ৫৭,০০০ গ্রিনল্যান্ডবাসীকে মোট ৫.৭ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার একটি প্রস্তাবও টেবিলে রয়েছে।
কেন গ্রিনল্যান্ড ট্রাম্পের এত প্রিয়? জনসংখ্যার বিচারে গ্রিনল্যান্ড ছোট হলেও এর ভৌগোলিক এবং সামরিক গুরুত্ব অপরিসীম। ট্রাম্প এর আগে একাধিকবার স্পষ্ট করেছেন যে, গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ আমেরিকার বৈশ্বিক শক্তির জন্য মনস্তাত্ত্বিকভাবে অত্যন্ত জরুরি। এমনকি তিনি এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন যে, গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ এবং ইউরোপের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার মধ্যে একটিকে বেছে নেওয়ার সময় আসতে পারে। ট্রাম্পের এই অনমনীয় মনোভাব ইউরোপীয় দেশগুলোতে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
সামরিক পদক্ষেপের ছায়া: পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক চরম হুঁশিয়ারিতে। তিনি জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনে তিনি সামরিক শক্তি প্রয়োগ করতেও পিছপা হবেন না। এই বিবৃতিকে ন্যাটো (NATO) সদস্য দেশগুলোর প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ড প্রশাসন সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, “গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়।” যেকোনো ধরনের জোরপূর্বক জবরদস্তি ন্যাটো জোটের অস্তিত্বকে বিপন্ন করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
গ্রিনল্যান্ডবাসীদের প্রতিক্রিয়া: ভয় বনাম সুযোগ এই মুহূর্তে গ্রিনল্যান্ডজুড়ে আতঙ্ক এবং বিভ্রান্তি বিরাজ করছে। ট্রাম্পের সামরিক হুমকির মুখে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন। তবে এর মধ্যেই ভিন্ন সুর শোনা যাচ্ছে প্রধান বিরোধী দল ‘নালেরাক’-এর কণ্ঠে। তারা বিষয়টিকে একটি সুযোগ হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, মার্কিন স্বার্থ গ্রিনল্যান্ডের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে পারে। তবে তারা একটি শর্তে অনড়—তারা ডেনিশ বা আমেরিকান নয়, বরং নিজেদের স্বতন্ত্র ‘গ্রিনল্যান্ডবাসী’ পরিচয় বজায় রাখতে চায়।