বিঘা জমির লোভে স্ত্রীকে খালে ফেলে খুন! উত্তরপ্রদেশে পাষণ্ড স্বামীর কাণ্ড দেখে শিউরে উঠবে দেশ!

উত্তরপ্রদেশের বারাবাঁকিতে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর্দা উন্মোচন করল পুলিশ। মাত্র ১২ বিঘা জমির লোভে এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে নৃশংসভাবে খুন করে নিখোঁজ হওয়ার নাটক সাজিয়েছিল। দীর্ঘ ১০ দিন তদন্তের পর অবশেষে শারদা খালের আদ্রা সেতুর কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে নিখোঁজ ওই গৃহবধূর পচাগলা দেহ। এই ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ঘটনার সূত্রপাত ও রহস্যময় নিখোঁজ নিহত গৃহবধূর নাম সুনীতা (২৬)। তাঁর মা মোহিনী জানান, ২০১৬ সালে আসান্দ্রা থানা এলাকার মনোজ কুমার রাওয়াতের সাথে সুনীতার বিয়ে হয়েছিল। সম্প্রতি সুনীতার বাবা কেশবরামের মৃত্যুর পর পৈতৃক সূত্রে সুনীতা ১২ বিঘা জমির মালিক হন। অভিযোগ, সেই জমি নিজের নামে করে নেওয়ার জন্য মনোজ দীর্ঘদিন ধরে সুনীতার ওপর মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার চালাচ্ছিল।

গত ৩০ ডিসেম্বর মনোজ তাঁর স্ত্রী সুনীতাকে নিয়ে কোতোয়াধাম মন্দিরে পুজো দিতে যান। সেখান থেকেই রহস্যজনকভাবে সুনীতা নিখোঁজ হয়ে যান। ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে মনোজের ভাই উমেশ থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরিও করেন। কিন্তু সুনীতার মায়ের সন্দেহ হওয়ায় তিনি জামাই ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেন।

পুলিশি তদন্তে হাড়হিম করা স্বীকারোক্তি তদন্তে নেমে আসান্দ্রা পুলিশ যখন স্বামী মনোজকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে, তখন তার বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। কড়া জেরার মুখে ভেঙে পড়ে মনোজ স্বীকার করে যে, মন্দির থেকে ফেরার পথে আদ্রা সেতুর কাছে সে তার স্ত্রীকে ধাক্কা দিয়ে শারদা খালে ফেলে দিয়েছিল। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ডুবুরি নামিয়ে খাল থেকে সুনীতার দেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, জমি হাতানোই ছিল এই খুনের মূল মোটিভ। অভিযুক্ত মনোজ কুমারকে সুরজপুর ফার্ম মোড় থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় পরিবারের আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।