‘আমি মনে করি এটা ক্রাইম’, I-PAC অফিস থেকে বেরিয়ে বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী মমতা

আইপ্যাক (I-PAC) অফিসে দীর্ঘ ৪০ মিনিট থাকার পর বেরিয়ে এসে কার্যত আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সরাসরি অভিযোগ, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) তল্লাশির নামে তৃণমূল কংগ্রেসের অতি গোপনীয় নির্বাচনী নথি, প্রার্থীর তালিকা এবং অভ্যন্তরীণ রণকৌশল হাতিয়ে নিয়েছে। এমনকি ল্যাপটপ থেকে তথ্য পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের জানান, “ওরা যখন রেইড শুরু করে, তখন অফিসে কেউ ছিল না। আমাদের পার্টির ডেটা, ল্যাপটপ, নথিপত্র এবং SIR-এর কাজের সমস্ত তথ্য ওরা ট্রান্সফার করেছে। আইপ্যাক তৃণমূলের রেজিস্টার্ড অফিস। এটা স্রেফ তল্লাশি নয়, এটা একটা অপরাধ (Crime)। অফিসের সব টেবিল ফাঁকা করে দেওয়া হয়েছে, মানে সব কাগজপত্র ওরা নিয়ে নিয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা রেজিস্টার্ড পার্টি, ইনকাম ট্যাক্স দিই। কিছু জানার থাকলে আইটি দপ্তর থেকে নিতে পারত। আমাদের না জানিয়ে সব তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই নথিগুলো নতুন করে তৈরি করতে গেলে নির্বাচনই পেরিয়ে যাবে।”
SIR নিয়ে বিতর্কিত নোটিশ: মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, SIR-এর নামে বিজেপি প্রতিহিংসার রাজনীতি করছে। তাঁর অভিযোগ, জয় গোস্বামী বা দেবের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কাছেও SIR নিয়ে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, “আমাদের প্রার্থীদের তালিকা ও ব্যক্তিগত তথ্য সব ওরা নিয়ে নিয়েছে। এটা হতে পারে না।”
তৃণমূলের ঝাঁঝালো বিবৃতি: এদিকে দলের তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে এই অভিযানকে ‘বৃহত্তম ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, গণতান্ত্রিকভাবে লড়াই করতে না পেরে বিজেপি এখন ইডি-কে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে অনৈতিক উপায়ে বাংলা দখলের চেষ্টা করছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশেই এই ‘কর্তৃত্ববাদী’ আচরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ জোড়া-ফুল শিবিরের। তবে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, দিল্লির এই চক্রান্ত তিনি কোনওভাবেই সফল হতে দেবেন না।