বিশেষ: দিনে ৫ ঘন্টা রুম হিটার চালালে কত টাকা বিল আসে? বুঝে নিন হিসেবটা

রাজ্য জুড়ে বইছে প্রবল শৈত্যপ্রবাহ। হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় নাজেহাল সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে চিন্তার শেষ নেই। জ্বর, সর্দি ও কাশির হাত থেকে বাঁচতে অনেকেই এখন ঘরের জন্য রুম হিটার কেনার দিকে ঝুঁকছেন। অবস্থা এমন যে, বাজারে হিটারের চাহিদার তুলনায় জোগান কম। কিন্তু আরামের জন্য হিটার কেনার আগে আপনার পকেটের স্বাস্থ্যের কথাও ভাবা জরুরি। কারণ, ভুল হিটার নির্বাচন করলে মাস শেষে ইলেকট্রিক বিল দেখে আপনার কপালে ঘাম জমতে পারে।
কত টাকার বিদ্যুৎ খরচ হতে পারে? বাজারে সাধারণত ৪০০ ওয়াট থেকে ১,০০০ ওয়াটের রুম হিটার বেশি জনপ্রিয়। ১,০০০ ওয়াটের একটি হিটার যদি রাতে অন্তত ৬ ঘণ্টা চলে, তবে দৈনিক খরচ হতে পারে প্রায় ৫০ টাকা। অর্থাৎ, মাসে শুধুমাত্র হিটারের জন্যই আপনার অতিরিক্ত ১,৫০০ টাকা বিদ্যুৎ বিল আসতে পারে। আবার ১,৫০০ ওয়াটের হিটার যদি দিনে ৫ ঘণ্টা করে একটানা তিন মাস চলে এবং প্রতি ইউনিটের দাম ৮ টাকা হয়, তবে পুরো শীতকালে আপনার খরচ হবে প্রায় ৫,৪০০ টাকা।
সঠিক হিটার নির্বাচনের ৫টি জরুরি দিক: হিটার কেনার আগে ঘরের আয়তন বোঝা সবচেয়ে জরুরি। ১০×১০ ফুটের ছোট ঘরের জন্য যা কার্যকর, বড় ঘরের জন্য তা যথেষ্ট নয়। বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে মাথায় রাখুন এই বিষয়গুলি:
BEE রেটিং: রেটিং যত বেশি হবে, বিদ্যুৎ খরচ তত কম হবে।
থার্মোস্ট্যাট: এই ফিচারের মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী তাপ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
টাইমার ফাংশন: ঘর গরম হয়ে গেলে অটোমেটিক বন্ধ হওয়ার সুবিধা থাকলে বিল কম আসবে।
ইকো মোড: কম বিদ্যুৎ খরচ করে আরামদায়ক উষ্ণতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
নিরাপত্তা: হিটার সবসময় আসবাব বা পর্দা থেকে অন্তত ২ ফুট দূরে রাখতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অয়েল-ফিলড বা সিরামিক হিটার দীর্ঘমেয়াদে বেশি কার্যকর এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। তাই সস্তার হিটার না কিনে নিরাপত্তার দিকটি খতিয়ে দেখে তবেই সিদ্ধান্ত নিন।