লালকেল্লা ‘টেস্ট রান’, ২০২৬-এর প্রজাতন্ত্র দিবসে ‘অদৃশ্য বোমা’-র আতঙ্ক!

২০২৬ সালের প্রজাতন্ত্র দিবস আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। যখন গোটা দেশ উৎসবের প্রস্তুতিতে মগ্ন, ঠিক তখনই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির এক গোপন রিপোর্টে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে সাউথ ব্লকে। রিপোর্ট বলছে, প্রথাগত বন্দুক বা আরডিএক্স (RDX) নয়, এবার দিল্লির ওপর হামলা চালাতে জঙ্গিরা ব্যবহার করতে পারে ইন্টারনেটে শেখা প্রযুক্তি এবং অত্যন্ত সস্তা রাসায়নিক দিয়ে তৈরি বোমা।
মেটাল ডিটেক্টরকেও ফাঁকি দেবে এই বিস্ফোরক!
গোয়েন্দাদের ঘুম উড়িয়েছে জঙ্গিদের নতুন কৌশল। জানা গিয়েছে, ‘আল-কায়েদা’ এবং ‘আইএস’ (IS)-এর মতো সংগঠনগুলি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘DIY’ (Do-It-Yourself) পদ্ধতিতে বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এই সব বোমায় এমন কিছু সাধারণ রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছে যা:
-
সাধারণ মেটাল ডিটেক্টরে ধরা পড়ে না।
-
স্নিফার ডগ বা প্রশিক্ষিত কুকুরকেও সহজেই ধোঁকা দিতে পারে।
-
এই বিস্ফোরকগুলো তৈরিতে খরচ অত্যন্ত কম কিন্তু ধ্বংসক্ষমতা মারাত্মক।
হিটলিস্টে VVIP এবং অর্থনৈতিক কেন্দ্র
জঙ্গিদের নিশানায় রয়েছে দিল্লির ভিভিআইপি (VVIP) জোন, গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র এবং পর্যটন কেন্দ্রগুলি। আশঙ্কার বিষয় হলো, জঙ্গিরা ভুয়ো পরিচয়পত্র বা খোদ নিরাপত্তাকর্মীদের উর্দি পরে হাই-প্রোফাইল এলাকায় প্রবেশের ছক কষছে। এছাড়া আকাশপথে হামলা চালাতে ‘ড্রোন’ বা রিমোট-কন্ট্রোলড সিস্টেম ব্যবহারের ব্লু-প্রিন্টও গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে।
অপারেশন সিঁদুরের বদলা নেওয়ার হুমকি
পাক-মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ এবং লস্কর-ই-তৈবা সরাসরি ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুরে’র বদলা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। গোয়েন্দারা মনে করছেন, গত ১০ নভেম্বর দিল্লির লালকেল্লার কাছে যে বিস্ফোরণ ঘটেছিল, তা আসলে কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। ফরিদাবাদের ‘হোয়াইট কলার টেরর মডিউল’-এর সহায়তায় সেটি ছিল ২৬ জানুয়ারির বড় নাশকতার একটি ‘টেস্ট রান’ বা মহড়া।
নিরাপত্তায় ‘জিরো টলারেন্স’
এই বহুমুখী এবং হাই-টেক হুমকির মোকাবিলায় দিল্লি পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনী বর্তমানে ‘হাই অ্যালার্ট’-এ রয়েছে। প্রজাতন্ত্র দিবস ও ‘বিটিং দ্য রিট্রিট’ অনুষ্ঠানকে ঘিরে রাজধানীর আকাশে অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম মোতায়েন করা হয়েছে। সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং নিরাপত্তায় কোনো রকম আপস না করার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে কেন্দ্র।
দেশবাসীর মনে এখন একটাই প্রার্থনা— উৎসবের সকালে যেন তেরঙার সম্মানে কোনো নাশকতার কালো দাগ না লাগে।