ভোটার কার্ডে এবার ‘CAA’ নথি! মমতাকে বেনজির আক্রমণ শান্তনু ঠাকুরের, বিপাকে মতুয়ারা?

বাংলায় নাগরিকত্ব ইস্যু নিয়ে ফের রণক্ষেত্র রাজনীতির ময়দান। নির্বাচন কমিশনের এক সাম্প্রতিক নির্দেশিকাকে হাতিয়ার করে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা মতুয়া মহাসংঘের সংঘাধিপতি শান্তনু ঠাকুর। সিএএ (CAA) সার্টিফিকেট নিয়ে কমিশনের গ্রিন সিগন্যাল পাওয়ার পর শান্তনুর প্রশ্ন— “মুখ্যমন্ত্রীর কথায় যাঁরা ফর্ম ভরেননি, তাঁদের ভবিষ্যৎ এখন কী?”

আসল বিতর্কটি কী? সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করেছে যে, ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা সংশোধনের ক্ষেত্রে (ফর্ম-৬) সিএএ সার্টিফিকেট বৈধ নথি হিসেবে গ্রহণ করা হবে। এই সিদ্ধান্তের পরেই তৃণমূলের পুরনো অবস্থানের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন শান্তনু। তিনি বলেন, “আপনারা এক সময় সাধারণ মানুষকে বুঝিয়েছিলেন সিএএ ফর্ম ফিলাপ না করতে। এখন যাঁরা সেই ফাঁদে পা দিয়ে আবেদন করেননি, তাঁরা তো মুশকিলে পড়বেন। এই দায় কি মুখ্যমন্ত্রী নেবেন?”

মমতার সেই হুঁশিয়ারি ও আজকের পরিস্থিতি: ২০২৪ সালে হাবরার সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিএএ পোর্টাল নিয়ে সতর্ক করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “আবেদন করলেই আপনাদের নাগরিকত্ব বাতিল হতে পারে।” শান্তনু ঠাকুরের দাবি, রাজ্য সরকারের এই ‘ভয় দেখানোর’ রাজনীতির কারণেই অনেক মতুয়া ভক্ত ও শরণার্থী পরিবার নাগরিকত্বের শংসাপত্র নেননি। এখন নির্বাচন কমিশন সেই শংসাপত্রকে মান্যতা দেওয়ায় যারা আবেদন করেননি, তাঁরা পিছিয়ে পড়লেন বলে দাবি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর।

নির্বাচন কমিশনের অবস্থান: গত ২৬ ডিসেম্বর কমিশন জানিয়ে দেয়:

  • সিএএ সার্টিফিকেট তখনই গ্রাহ্য হবে, যখন নতুন করে ফর্ম-৬ পূরণ করে আবেদন করা হবে।

  • ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকার খসড়া বেরিয়ে গিয়েছে।

  • কমিশনের নথির তালিকায় সরাসরি নাগরিকত্ব সার্টিফিকেটের উল্লেখ না থাকলেও, এটি যে বিশেষ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে, তা স্পষ্ট।

মতুয়া ভোটে প্রভাব? রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬-এর আগে সিএএ ইস্যুকে নতুন করে উসকে দিয়ে মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক সংহত করতে চাইছেন শান্তনু। অন্যদিকে, তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনও এই বিষয়ে পাল্টা কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে সিএএ সার্টিফিকেট হাতে থাকলে ভোটার তালিকায় নাম তোলা যে আরও সহজ হবে, কমিশনের এই ইঙ্গিত নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিল।